ঢাকা: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, স্বাধীনতা মানে কেবল একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ড নয়, বরং সেই ভূখণ্ডে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও মুক্তি। আজ সেই স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে এদেশের জনগণ বিজয়ী হয়েছে। এখন এই বিজয়ের সুফল প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতেই তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন স্বাধীনতার ঘোষক ও প্রথম সেক্টর কমান্ডার শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে শহিদ জিয়ার ‘উই রেভল্ট’ ঘোষণার মাধ্যমে যে প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল, তা ছিল একটি জাতির মুক্তির চূড়ান্ত সোপান। এর পাশাপাশি সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের কথা তিনি সশ্রদ্ধচিত্তে উল্লেখ করেন।
নজরুল ইসলাম খান তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন যে, স্বাধীনতা মানে কেবল একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ড নয়, বরং সেই ভূখণ্ডে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও মুক্তি নিশ্চিত হওয়া। তিনি উল্লেখ করেন, ছাত্র-শ্রমিক ও জনতার দীর্ঘ লড়াইয়ের পর দেশে যে পরিবর্তন এসেছে, তার সুফল এখন প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে।
আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা নিজেদের গণতন্ত্রের রক্ষক দাবি করে, তাদের হাতেই বারবার গণতন্ত্র ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। আদালত থেকে শুরু করে প্রতিটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে গত শাসনামলে নজিরবিহীনভাবে দলীয়করণ করা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে কৃষকদের অধিকার রক্ষা এবং ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাসহ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনার কাজ চলছে। কর্মসংস্থান ও শিক্ষার প্রসারে সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে এবং এই উন্নয়ন বার্তাগুলো সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
নেতাকর্মীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদের উপযুক্ত ও শক্ত জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। রাজপথের লড়াইয়ে বিজয় অর্জিত হয়েছে, এখন সেই বিজয়ের সুফল জনগণের হাতে পৌঁছে দিয়ে প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। উল্লেখ্য, উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।