ঢাকা: রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংস্কারের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে না আনলে দেশ আবারও ভয়াবহ কর্তৃত্ববাদী শাসনের কবলে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী। তিনি বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো সুসংহত করা না গেলে একটি পূর্ণাঙ্গ ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থা তৈরির ঝুঁকি প্রকট হবে।
রোববার (৩ মে) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে আয়োজিত এক জাতীয় কনভেনশনে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি আয়োজিত এই কনভেনশনে ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, সংস্কার ও গণভোট’ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
দিলারা চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের মাত্র ২ মাসের মাথায় জুলাই সনদ ও বিভিন্ন অধ্যাদেশে প্রস্তাবিত গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলো হয় বাতিল করা হচ্ছে, না হয় উপেক্ষা করা হচ্ছে। মানবাধিকার কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার প্রস্তাব কার্যত বাতিলের পথে রয়েছে, যা জন-আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্নে আপসহীন অবস্থানের কথা জানিয়ে এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলেন, বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া একটি স্বাধীন কমিটির মাধ্যমে হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে তা প্রধানমন্ত্রীর হাতে রাখার চেষ্টা চলছে। এটি বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগের প্রভাবাধীন করার একটি অপকৌশল। বিচার বিভাগ যদি নির্বাহীর ইচ্ছার প্রতিফলক হয়ে দাঁড়ায়, তবে অতীতের মতো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার হাতিয়ার হিসেবে এটি ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।
দিলারা চৌধুরী রাষ্ট্র পরিচালনায় ক্ষমতার ভারসাম্য বা ‘চেক অ্যান্ড ব্যালান্স’ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। তিনি প্রস্তাব করেন, একটি শক্তিশালী সাংবিধানিক কাউন্সিল গঠন করা প্রয়োজন যেখানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা ও জ্যেষ্ঠ বিচারপতিরা থাকবেন। এই কাউন্সিলের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় নিয়োগগুলো সম্পন্ন হলে প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণের হাত থেকে রক্ষা পাবে।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারকে ভেতর ও বাইরে থেকে প্রবল চাপ সৃষ্টি করতে হবে যাতে বাতিল হওয়া অধ্যাদেশগুলো পুনর্বহাল করা হয়। দীর্ঘদিনের রাজনীতিকরণের ফলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল, সেই একই পথে আবার হাঁটা শুরু করলে গণতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে পড়বে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার যে চেষ্টা চলছে, তাকেও তিনি গণতান্ত্রিক বিকাশের অন্তরায় হিসেবে অভিহিত করেন। মূলত ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণই দেশীয় রাজনীতিতে ফ্যাসিবাদী প্রবণতা উসকে দেয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।