ঢাকা: ধৈর্য্য ও কৌশলের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যায় পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নিয়মিত বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।
ইউনুছ আহমাদ বলেন, ‘গতকাল মাইলস্টোন স্কুলে যা ঘটেছে, তা গোটা জাতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। শোক প্রকাশ করার ভাষাও আমরা হারিয়ে ফেলেছি। কষ্ট, বেদনা আর আক্ষেপে হৃদয় হাহাকার করছে। আহতরা দ্রুত সুস্থ্য হয়ে উঠুক, নিহতরা শাহাদাতের মর্যাদায় সম্মানিত হোক, শোকাহত পরিবারকে আল্লাহ ধৈর্য্য ধারণ করার তৌফিক দান করুক এই প্রত্যাশায় আমরা ব্যকুল হয়ে আছি। সরকারের উদ্দেশে বলব, ধৈর্য্য ও কৌশলের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করুন।’
রাজপথে আন্দোলনরতদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকের যে বেদনা ও কষ্ট তা বিগত ৫৪ বছরের ধারাবাহিক অরাজকতার ফল। আমরা সেই অরাজকতা দুর করতে জুলাইতে ফ্যাসিবাদকে উৎখাত করেছি। এখন দেশ গড়ার সময়। পতিত ফ্যাসিবাদ আবারও ছোবল দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে। কোনো অবস্থাতেই যেন তারা কোনো সুযোগ নিতে না পারে সেই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’
বৈঠকে ইসলামী আন্দোলনের যুগ্মমহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘দুর্ঘটনার ভয়াবহতায় আমরা হতবিহব্বল। তারপরও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস এবং আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা যে দ্রুততা ও দক্ষতার সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থপনা করেছে, তা সাধুবাদযোগ্য।’
‘তথাপিও ঢাকার মতো একটা জনবহুল এলাকায় প্রশিক্ষণ বিমান উড্ডয়ন, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমানের মান ইত্যাদি নিয়ে প্রশ্ন করার যৌক্তিক কারণ আছে। ২২ জুলাই রাষ্ট্রীয় শোক প্রকাশের জন্য ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গেই ২২ জুলাইয়ের পরীক্ষা বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত আসা দরকার ছিল। রাত ৩ টার সময় পরের দিনের পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা সরকারের সিদ্ধান্তহীনতা প্রকাশ করে। এসব নিয়ে বিরক্তি ও ক্ষোভ থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু সেই বিরক্তি ও ক্ষোভকে কেন্দ্র করে পতিত ফ্যাসিবাদ যাতে কোনো ধরনের সুযোগ নিতে না পারে, সেই বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে’, বলেন আতাউর রহমান।
তিনি বলেন, ‘আজকে যেভাবে গেট ভেঙ্গে সচিবালয়ে প্রবেশ করা হয়েছে তাতে আমরা শঙ্কা বোধ করছি যে, পতিত ফ্যাসিবাদ হয়তো সুযোগ নিতে চাইছে। ফ্যাসিবাদের পালাতক নেতাদের অনলাইন কার্যক্রমও তেমনি ইঙ্গিত দেয়। সেক্ষেত্রে ইসলামী আন্দোলন পরিস্কার ঘোষণা করছে যে, আমাদের কষ্ট ও বেদনার সমাধান আমরাই করব কিন্তু, পতিত ফ্যাসিবাদ কোনো সুযোগ নিতে চাইলে ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করা হবে। কোনো অবস্থাতেই পতিত ফ্যাসিবাদকে সুযোগ দেওয়া যাবে না।’
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমাদ আবদুল কাইয়ুম, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক, মহিলা ও পরিবার কল্যাণ সম্পাদক মাওলানা এবিএম জাকারিয়া, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক প্রফেসর ড. বেলাল নূর আজিজী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আতিকুর রহমান মুজাহিদ, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি মোস্তফা কামাল, সহ-প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক কেএম শরীয়াতুল্লাহসহ অনেকে।