ঢাকা: আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনে আবারও রদবদল আনা হয়েছে। দেশের ৮টি উপজেলায় নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকালীন এই রদবদল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হলেও নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়াটি তাদের পূর্ব-সম্মতিতেই সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব সামিউল আমিন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই রদবদলের আদেশ জারি করা হয়।
রদবদল হওয়া কর্মকর্তারা হলেন-
১. ইশরাত জাহান: পাথরঘাটা (বরগুনা) থেকে সরিয়ে চরফ্যাশনে (ভোলা) পদায়ন।
২. মো. আল-আমীন: জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) থেকে নগরকান্দায় (ফরিদপুর) বদলি।
৩. রেহেনা আক্তার: ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) থেকে ধুনট (বগুড়া) উপজেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত।
৪. লিটন চন্দ্র দে: বাহুবল (হবিগঞ্জ) থেকে জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) উপজেলায় বদলি।
৫. প্রীতিলতা বর্মন: ধুনট (বগুড়া) থেকে বাহুবল (হবিগঞ্জ) উপজেলায় বদলি।
৬. মিলু মেহরাজ শারবীন: নগরকান্দা (ফরিদপুর) থেকে কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) উপজেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত।
৭. মাসুদুর রহমান: কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) থেকে ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) উপজেলায় বদলি।
৮. মো. লোকমান হোসেন: চরফ্যাশন (ভোলা) থেকে পাথরঘাটা (বরগুনা) উপজেলায় বদলি।
ইসির ব্যাখ্যা ও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা
নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, তফসিল ঘোষণার পর যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক রদবদলে ইসির পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক। ইসির একটি বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো তালিকা পর্যালোচনা করেই কমিশন এই সম্মতিতে সই করেছে। এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ বলে দাবি করেছে কমিশন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বদলিকৃত কর্মকর্তাদের আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি)-এর মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। অন্যথায় ২২ জানুয়ারি অপরাহ্নে তারা বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (Stand Released) বলে গণ্য হবেন। এছাড়া তাদের নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষমতাও অর্পণ করা হয়েছে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনের এই হঠাৎ রদবদলকে ‘অদৃশ্য পরিকল্পনা’ হিসেবে দেখছে কয়েকটি রাজনৈতিক দল। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলো এই পরিবর্তনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে ইসি ও সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মাঠ প্রশাসনের গতিশীলতা বজায় রাখতে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই রদবদল।