ঢাকা: পৌষ মাসজুড়ে শীতের দাপট দেখা গেলেও মাঘ মাসের শুরুতে সেই তীব্রতা অনেকটাই কমে গেছে। দিনের বেলায় তুলনামূলক উষ্ণতা এবং রাতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রার কারণে শীতের অনুভূতি তেমন একটা টের পাওয়া যাচ্ছে না। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেই আবারও তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুকের সই করা ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বর্তমানে উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। একই সময়ে মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে এবং এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এই আবহাওয়াগত অবস্থানের প্রভাবেই দেশের আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকছে এবং শীতের তীব্রতা কম অনুভূত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। একই সঙ্গে শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের হালকা প্রভাব ফিরতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। যদিও আগামী পাঁচ দিনের শেষের দিকে আবার তাপমাত্রা বাড়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) আবহাওয়ায় খুব একটা পরিবর্তন আসবে না বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ওই দিনও অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশে শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। এ সময় রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসেও একই ধরনের আবহাওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সারা দেশে আংশিক মেঘলা আকাশসহ শুষ্ক আবহাওয়া থাকতে পারে এবং শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কোথাও কোথাও কুয়াশা দেখা দিতে পারে। এদিন রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
এদিকে সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনের শেষের দিকে দেশের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। ফলে শীতের অনুভূতি আরও কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, জানুয়ারির শেষ দিকে সাধারণত এমন ওঠানামা দেখা যায় এবং বড় ধরনের শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা আপাতত নেই। তবে কুয়াশার কারণে ভোরের দিকে সড়ক ও নৌপথে চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।