Thursday 24 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ / যেসব কারণে বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক
২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:১০
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বিশ্বকাপের তখন বাকি মাত্র এক মাস। অন্য সব দলের মতো বাংলাদেশও তখন টি-২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত। ঠিক তখনই এলো সেই খবরটি। বিসিসিআইয়ের নির্দেশে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হলো মোস্তাফিজুর রহমানকে। আর এতেই ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানালো বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত অনেক আলোচনার পরেও বাংলাদেশকে রাজি করাতে পারেনি আইসিসি। ঠিক কী কী কারণে বিশ্বকাপ বর্জনের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ?

উগ্র কিছু হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ও তাদের বেশ কয়েকজন নেতা আইপিএলের নিলামের আগে থেকেই হুমকি দিয়ে আসছিল, কলকাতা নাইট রাইডার্স যেন মোস্তাফিজুর রহমান কিংবা অন্য কোন বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে দলে না রাখে। তাদের দাবি উপেক্ষা করেই ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মোস্তাফিজকে দলে নেয় কেকেআর।

বিজ্ঞাপন

কলকাতার এমন সিদ্ধান্তের পর ভারতের বেশ কয়েক জায়গায় বিক্ষোভ হয়েছে, হুমকি দেওয়া হয়েছে কলকাতার মালিকপক্ষকেও। এমন অবস্থায় এই মাসের শুরুতে বিসিসিআই নির্দেশ দেয়, আইপিএলের ‘নিরাপত্তার’ কথা ভেবে কলকাতা যেন মোস্তাফিজকে ছেড়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত ‘নিরাপত্তার’ দোহাই দিয়ে কলকাতা সেই সিদ্ধান্তই নিয়েছে।

মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনার পরপরই বিশেষ বৈঠকে বসে বিসিবি। সেখান থেকে জানা যায়, মোস্তাফিজের সঙ্গে যে অন্যায় করা হয়েছে, বাংলাদেশ সেটা কিছুতেই মানতে পারছে না। পরবর্তীতে মোস্তাফিজের এনওসিও বাতিল করা হয়, যেন তাকে আইপিএল কর্তৃপক্ষ ফেরাতে চাইলেও সেটা সম্ভব না হয়।

বিসিবি এরপর কয়েক দফায় বাংলাদেশের বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। বিসিবির প্রথম দাবি ছিল, একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটারকেই যদি বিসিসিআই নিরাপত্তা দিতে না পারে, তাহলে বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া পুরো বাংলাদেশ স্কোয়াড, টিম ম্যানেজমেন্ট, সাংবাদিক ও বিপুল সংখ্যক দর্শককে কীভাবে নিরাপত্তা দেওয়া হবে?

বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে এরপর খবর আসে, আইসিসি ও বিসিসিআই থেকে বাংলাদেশের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মোস্তাফিজকে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণা করতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের কোন সমর্থক নিজের দেশের জার্সি পরে স্টেডিয়াম উপস্থিত হতে পারবেন না। একই সঙ্গে ভারতের যানবাহনেও বাংলাদেশের জার্সি পরে চড়তে পারবেন না সমর্থকরা। এমন কিছু করলে নিজেরাই ‘বিপদে’ পড়তে পারেন বলেও সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের সমর্থক ও সাংবাদিকদের ‘নিরাপত্তা’ নিয়ে বড় প্রশ্ন ওঠে এমন খবর ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই। ইএসপিএন ক্রিকইনফো, ক্রিকবাজ অবশ্য জানায়, আইসিসির তরফ থেকে এরকম কোন নির্দেশনা বিসিবিকে দেওয়া হয়নি। তবুও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারতের মাটিতে খেলতে যাওয়া নিয়ে শঙ্কাটা বেশ বড়সড়ভাবেই জেগে ওঠে।

নিজের মধ্যে বেশ কয়েক দফা বৈঠক করেছে বিসিবি। বৈঠক ও চিঠি চালাচালি হয়েছে আইসিসির সঙ্গেও। আইসিসিও ভারতের সঙ্গে বৈঠক করেছে। বিসিবি জানায়, ভারতের কলকাতা ও মুম্বাইয়ের যে দুই ভেন্যুতে বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের ৪টি ম্যাচ রয়েছে, সেখানে বাংলাদেশকে পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে পারবে না ভারত। আর এতেই বাংলাদেশ ভারতে খেলতে যাবে না। বাংলাদেশের সব ম্যাচ তাই শ্রীলংকায় নেওয়ার আবেদন করা হয়।

বিসিবি এ প্রস্তাবও দিয়েছিল, বাংলাদেশকে যেন সি গ্রুপ থেকে বি গ্রুপে সরিয়ে নেওয়া হয়। এই গ্রুপের ম্যাচগুলো হবে শ্রীলংকায়। তবে বাংলাদেশের এই প্রস্তাব মানতে নারাজ বি গ্রুপের আয়ারল্যান্ড। তাই বাংলাদেশের এই প্রস্তাবও ভেস্তে যায়।

আইসিসি অবশ্য বিসিবির সেই আবেদন রাখেনি। বাংলাদেশের সামনে দুটি পথই তাই খোলা ছিল। হয় ভারতে খেলতে হবে, নাহলে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াতে হবে। বাংলাদেশ বেছে নিয়েছে দ্বিতীয়টাই। নিজেদের দাবিতে অনড় থেকে বিসিবি বলছে, ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বাংলাদেশের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার জন্য একেবারেই উপযুক্ত নয়।

তবুও বিসিবি প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসমাল বুলবুল জানিয়েছেন, এখনো বিশ্বকাপে খেলার ব্যাপারে আশাবাদী তারা। আইসিসি বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলংকায় সরিয়ে নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর