Monday 20 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

চুয়াডাঙ্গায় স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২০ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:১৪

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সালাম।

চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় স্কুলছাত্রীকে (১৫) অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে সালাম (২১) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালতের বিজ্ঞ বিচারক।

সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা শিশু ধর্ষণ আপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মোস্তাগীর আলম এই রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের রায়ে জানা যায়, আসামি সালামকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের পৃথক দুটি ধারায় সাজা দেওয়া হয়েছে। মামলায় আইনের ৯(১) ধারায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া আইনের ৭ ধারায় তাকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আদালত উল্লেখ করেছেন, উভয় সাজা পর্যায়ক্রমে কার্যকর হবে। তবে আসামি এরই মধ্যে হাজতে থাকার সময়কাল মূল দণ্ডাদেশ থেকে বাদ যাবে।

বিজ্ঞাপন

তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ দামুড়হুদা মডেল থানার কার্পাসডাঙ্গা এলাকার ১০ম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় অপহরণ করে আসামি সালাম। পরবর্তীতে ভিকটিমকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে ভুয়া বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবং ‘কাল্পনিক কাবিননামা’ তৈরি করে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করা হয়।

স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হারুন অর রশীদ দীর্ঘ তদন্ত শেষে আসামি সালাম এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। মেডিকেল রিপোর্টে ধস্তাধস্তির চিহ্ন না থাকলেও ভিকটিমের বয়স ১৬ বছরের কম হওয়ায় এবং সম্মতিবিহীন যৌন সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়ায় আদালত এই কঠোর রায় প্রদান করে।

তদন্ত প্রতিবেদনে অপহরণে সহায়তার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলেও, প্রমাণের অভাবে মামলার অন্যান্য আসামি বজলুর রশীদ মজু, মোছা.মনোয়ারা বেগম এবং জালাল ওরফে শাহজালালকে মামলার দায় হতে অব্যাহতি দেয়া হয়। এছাড়া মামলার ২ নম্বর আসামি মো. আল-আমিন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বা প্রমাণের অভাবে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো বিবেচনা করা হয়েছে।

রায় ঘোষণার পর আসামিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি এম.এম. শাহজাহান মুকুল। তিনি রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন,’বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে ধর্ষণের যে প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, এই রায় তা রোধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা এই রায়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট এবং আশা করি এর মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।’

বিজ্ঞাপন

আপনার ত্বকের গোপন শত্রু!
২০ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:০১

আরো

সম্পর্কিত খবর