Wednesday 13 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সর্বজনীন পেনশন স্কিমে মোট নিবন্ধিত ৩ লাখ ৭৭ হাজার, জমা ২৫৫ কোটি টাকা

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১২ মে ২০২৬ ১৯:১০ | আপডেট: ১২ মে ২০২৬ ২১:৪৯

ঢাকা: চলমান সর্বজনীন পেনশনের চারটি (প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা) স্কিমে সর্বশেষ গত এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৫ জন নাগরিক নিবন্ধিত হয়েছেন এবং পেনশন তহবিলে মোট জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। মুনাফাসহ এ পর্যন্ত মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ২৭৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

মঙ্গলবার (১২ মে) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সর্বজনীন পেনশন স্কিম বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের সভায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় অন্যান্যের মধ্যে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান ও অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

সভায় সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলার লক্ষ্যে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় জানানো হয়, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ প্রকল্পে ১০ কোটি ডলার সহজশর্তে ঋণ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া ৪৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিকাশ, নগদ ও টেলিটকের মাধ্যমে চাঁদা গ্রহণের ব্যবস্থা এবং ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সর্বজনীন পেনশন স্কিমের সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের প্রতিটি থেকে কমপক্ষে একজন সদস্যকে পেনশন স্কিমের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে। একই সাথে স্কিমকে আরও আকর্ষণীয় করতে শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালু, নমিনিদের জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা বিবেচনা এবং প্রগতি স্কিমে আউটসোর্সিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন।

সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে সকল নাগরিকের কাছে পৌঁছে দিতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬ অনুযায়ী বেসরকারি খাতের কর্মীদের বার্ধক্যকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘পেনশন ফান্ড’ গঠন একটি অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। সর্বজনীন পেনশন স্কিমে জনগণের আস্থা বৃদ্ধি, প্রচার কার্যক্রম জোরদার, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দক্ষ ও পেশাদার জনবল নিয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন অর্থমন্ত্রী।

সভায় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান সর্বজনীন পেনশন স্কিমের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে একটি বিস্তারিত উপস্থাপনা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত এবং দেশের বয়স্ক জনগোষ্ঠীর নির্ভরশীলতার অনুপাত ২০২৩ সালের ৯.৪ শতাংশ থেকে ২০৫০ সালে ২৪ শতাংশ ও ২০৭৫ সালে ৪৮ শতাংশে উন্নীত হবে। ভবিষ্যতের এই জনমিতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে আরও শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হিসেবে গড়ে তোলা দরকার।

সারাবাংলা/এসআর
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর