Thursday 14 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘ওয়ান পার্সন-ওয়ান ওয়ালেট-ওয়ান আইডি’, আসছে একক ডিজিটাল পরিচয়

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৪ মে ২০২৬ ১৯:০৮ | আপডেট: ১৪ মে ২০২৬ ১৯:১০

ঢাকা: দেশের প্রতিটি নাগরিককে একটি সমন্বিত ডিজিটাল পরিচয় ও আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনতে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলা‌দেশ ব্যাংক। প্রস্তাবিত এ ব্যবস্থায় একজন ব্যক্তির জন্য থাকবে একটি ইউনিক আইডি ও একটি ইউনিক ডিজিটাল ওয়ালেট। সে পরিচয়পত্রের মাধ্যমেই সামাজিক সুরক্ষা ভাতা গ্রহণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করা যাবে। শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।

বৃহস্প‌তিবার (১৪ মে) বাংলা‌দেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হো‌সেন খান এসব কথা জানান।

তি‌নি বলেন, নতুন আইডি হবে একটি “কমপ্রিহেনসিভ আইডি”, যেখানে একজন নাগরিকের প্রয়োজনীয় সব ধরনের তথ্য ও ডকুমেন্ট একসঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। বর্তমানে জাতীয় পরিচয়পত্রে বিভিন্ন ধরনের নম্বর ব্যবহৃত হচ্ছে—কখনো ১০ ডিজিট, কখনো ১৩ বা ৯ ডিজিট। নতুন ব্যবস্থায় একটি একক নম্বর বা ইউনিক আইডির মাধ্যমে নাগরিকের সব ধরনের পরিচয় ও সেবা যুক্ত থাকবে। এটি জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন সরকারি পরিচয়পত্র ও সেবার বিকল্প হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি—যেমন ভাতা, কৃষক সহায়তা, পরিবারভিত্তিক সহায়তা কর্মসূচি— সবই একটি ডিজিটাল ওয়ালেটের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। ওই ওয়ালেটের মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা সরকারি অর্থ সহায়তা গ্রহণের পাশাপাশি দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনও করতে পারবেন।

মুখপাত্র জানান, দেশের কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনই ক্যাশ‌লেসের বাইরে রাখতে চায় না সরকার। অঙ্ক ছোট বা বড়—সব ধরনের লেনদেনকে পর্যবেক্ষণযোগ্য ব্যবস্থার মধ্যে আনার লক্ষ্য রয়েছে। এর মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিক ও অদৃশ্য অর্থপ্রবাহ কমিয়ে আর্থিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়ানো সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডিজিটাল পরিচয় ও ওয়ালেটভিত্তিক এই ব্যবস্থা চালু হলে নাগরিক সেবা গ্রহণে আলাদা আলাদা কার্ড বা কাগজপত্র বহনের প্রয়োজন কমে আসতে পারে। বর্তমানে ব্যবহৃত স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্রের মতোই এটি বহনযোগ্য হবে, তবে এর কার্যপরিধি আরও বিস্তৃত হবে বলে ইঙ্গিত দেন তি‌নি।

তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তথ্য সুরক্ষা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, সাইবার নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি একক ডিজিটাল পরিচয়ব্যবস্থা কার্যকর করতে হলে শক্তিশালী তথ্য সুরক্ষা আইন ও নিরপেক্ষ তদারকি কাঠামো প্রয়োজন হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নীতিমালা বা সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা করা হচ্ছে, ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও সরকারি সেবাকে এক প্ল্যাটফর্মে আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর