বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়রিতে দেশে অভ্যন্তরীণ ক্রেডিট কার্ড লেনদেন ছিল ৩ হাজার ৪২২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। যা পরের মাস মার্চে বেড়ে দাড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৪২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। সেই হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ৯২০ কোটি টাকা বা ২৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ। একইভাবে বিদেশে ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশিদরে খরচ ছিল ৩৭৭ কোটি ১০ লাখ টাকা। তা পরের মাস মার্চে বেড়ে হয়েছে ৪৭০ কোটি ১০ লাখ টাকা। এখানে বেড়েছে ৯৩ কোটি টাকা বা ২৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, ই-কমার্সের বিস্তার, বিদেশ ভ্রমণ বৃদ্ধি, অনলাইন সাবস্ক্রিপশন সেবা এবং নগদবিহীন লেনদেনের সংস্কৃতি গড়ে ওঠায় ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মার্চে বিদেশে বাংলাদেশিদের বিপনি বিতানে বেশি খরচের রেকর্ড ১৫১ কোটি ১০ লাখ টাকা। খরচের দ্বিতীয় অবস্থান খাত খুচরা বিক্রয় কেন্দ্রে ৭৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা, বিমান টিকিট, রাইড শেয়ারিং, গণপরিবহন ও ট্রাভেলসহ পরিবহনে খরচ ৫৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা, ওষুধ ও ফার্মেসিতে ব্যয় ৪৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং ব্যবসায়িক সেবায় ব্যয় হয়েছে ৩৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
তথ্য বলছে, দেশভিত্তিক হিসাবেও মার্চ মাসে বাংলাদেশিদের উচ্চশিক্ষা, চিকিৎসা, ভ্রমণ ও কেনাকাটার ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সর্বোচ্চ যুক্তরাষ্ট্রে ব্যয় হয়েছে ৬১ কোটি ৪০ লাখ টাকা, দ্বিতীয় অবস্থানে থাইল্যান্ড ব্যয় ৫০ কোটি টাকা, তৃতীয় স্থানে থাকা সৌদি আরবে ব্যয় ৪৯ কোটি ১০ লাখ ট, চতুর্থ অবস্থানে সিঙ্গাপুর ৪১ কোটি ১০ লাখ এবং পঞ্চম অবস্থানে যুক্তরাজ্যে ব্যয় ৪০ কোটি ১০ লাখ টাকা।
এদিকে দেশের ভেতরে প্রথম অবস্থানে বিপনীবিতানে ব্যয় ১ হাজার ৯৪৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা, দ্বিতীয় অবস্থানে দোকানে ব্যয় ৫৫১ কোটি ৭০ লাখ, খুচরা বিক্রয় কেন্দ্রে ব্যয় ৪৮৪ কোটি ৬০ লাখ, তৃতীয় অবস্থানে ইউটিলিটি বিল পরিশোধে ব্যয় ৩৬০ কোটি ৯০ লাখ, চতৃর্থ অবস্থানে নগদ অর্থ উত্তোলনে ২৭৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা, এবং পঞ্চম অবস্থানে ফার্মেসিতে ২১১ কোটি ৫০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।
উল্লে্খ্য, গত মার্চ পর্যন্ত দেশের ৪৭টি ব্যাংক এবং একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ২৭ লাখ ৮ হাজার ২৮৫টি ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সেবা দিচ্ছে।