ঢাকা: ঈদুল আজহার টানা সাত দিনের ছুটি শেষে আজ সোমবার (১জুন) অবশেষে দুয়ার খুলেছে সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের। চিরচেনা সেই কর্মব্যস্ততা আর নাগরিক কোলাহলে ফেরার অপেক্ষায় রাজধানী ঢাকা। কিন্তু ছুটির প্রথম দিনে রাজপথের চিত্র যেন সম্পূর্ণ এক ভিন্ন গল্পের অবতারণা করছে। সড়কে গণপরিবহনের চাকা ঘুরলেও, অধিকাংশ বাসের ভেতরের আসনগুলো রয়ে গেছে ফাঁকা।
সোমবার সকাল থেকেই রাজধানীর প্রধান প্রধান বাসস্ট্যান্ড ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে বাসের সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে অন্যান্য কর্মদিবসের মতো বাসে ওঠার জন্য যাত্রীদের চিরচেনা হুড়োহুড়ি আজ দেখা যায়নি। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ঢাকায় ফিরতে শুরু করলেও, নগরীর ভেতরের যাতায়াতে এখনো চরম যাত্রী সংকট দেখা যাচ্ছে।
সড়কে গাড়ির আধিক্য থাকলেও কাঙ্ক্ষিত যাত্রী না পাওয়ায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পরিবহন শ্রমিকদের। মিরপুর থেকে মতিঝিল রুটে চলাচলকারী একটি পরিবহনের চালক ‘রহমত আলী’ নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, অফিস খোলার প্রথম দিন সকালবেলা সাধারণত বাসে পা ফেলার জায়গা থাকে না। অথচ আজ আমরা প্রায় খালি গাড়ি নিয়ে ট্রিপ মারছি। অর্ধেকের বেশি আসন শূন্যই থেকে যাচ্ছে।
একই রুটের অন্য একটি বাসের চালকের সহকারী ‘সুমন মিয়া’ জানান, সাধারণ মানুষ এখনো পুরোপুরি ঢাকা ফিরে আসেনি। অনেকেই পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়তি দু-একদিন গ্রামে থেকে যাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, মানুষ যেভাবে ধীরেসুথে ফিরছে, তাতে মনে হচ্ছে ঢাকা তার চিরচেনা রূপে ফিরতে আরও অন্তত দুই থেকে তিন দিন সময় লাগবে।
সকালের দিকে অফিসগামী কিছু যাত্রী পাওয়া গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়কের দৃশ্যপট আরও বেশি ফাঁকা হয়ে পড়ে। গাবতলী ও ফার্মগেট এলাকার কয়েকজন বাসশ্রমিক জানান, দুপুরের পর থেকে যাত্রী সংখ্যা এতটাই কমে গেছে যে তেলের খরচ ওঠানোই মুশকিল হয়ে পড়েছে।
ঈদের সরকার নির্ধারিত ছুটি শেষ হলেও অনেকেই এর সঙ্গে নিয়েছেন অতিরিক্ত ঐচ্ছিক ছুটি। তাই এখনো অনেকে ঢাকায় ফেরেননি। টানা ছুটির অবসাদ কাটিয়ে রাজপথ এবং অফিসপাড়াগুলোতে মানুষের ব্যস্ততা আজ থেকে শুরু হলেও, যান্ত্রিক এই নগরীর চেনা ছন্দ, তীব্র জ্যাম আর চঞ্চলতা পুরোপুরি ফিরে পেতে আরও কয়েকটা দিন অপেক্ষা করতে হবে।