Saturday 06 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে আধিপত্য ইসলামি ধারার ব্যাংকের

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৬ জুন ২০২৬ ১৮:২৭

এজেন্ট ব্যাংকিং। ফাইল ছবি

ঢাকা: দেশের গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এজেন্ট ব্যাংকিং। চলতি বছরের মার্চ শেষে এ খাতে মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ৫৬২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি আমানত রয়েছে ইসলামি ধারার ৮টি বেসরকারি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে। আর এককভাবে সবচেয়ে বেশি আমানত রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ এজেন্ট ব্যাংকিং-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে মোট আমানত ছিল ৪৯ হাজার ৭২০ কোটি ১৬ লাখ টাকা। তিন মাসের ব্যবধানে আমানত বেড়েছে প্রায় ৮৪২ কোটি টাকা।

বিজ্ঞাপন

মোট আমানতের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর অংশ মাত্র ৮৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এ পুরো অর্থই রয়েছে সোনালী ব্যাংক পিএলসির এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমে।

অন্যদিকে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আমানতের পরিমাণ ৫০ হাজার ৪৭৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোর আমানত ২৩ হাজার ৪০৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এই ধারার ব্যাংকগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসি। ব্যাংকটির এজেন্ট ব্যাংকিং আমানত ৭ হাজার ৯০ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্যাংক এশিয়া, যার আমানত ৬ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা। এরপর রয়েছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক।

অন্যদিকে ইসলামি ধারার ৮টি ব্যাংকের মোট আমানত দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৬৫ কোটি টাকা, যা মোট আমানতের অর্ধেকেরও বেশি। এর মধ্যে এককভাবে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির আমানত ২২ হাজার ৯৪ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, এর আমানত ৩ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা।

এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা চালুর ফলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ব্যাংকিং সুবিধা বেড়েছে বলে মনে করছেন গ্রাহকেরা। অনেকের মতে, এখন বাড়ির কাছেই টাকা জমা, উত্তোলন ও প্রবাসী আয় গ্রহণ করা সম্ভব হওয়ায় সময় ও যাতায়াত ব্যয় দুটিই কমেছে। বিশেষ করে নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও প্রবাসী পরিবারের সদস্যরা এ সেবা থেকে বেশি উপকৃত হচ্ছেন।

বাংলাদেশে ২০১৩ সালে এজেন্ট ব্যাংকিং চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই বছরের ৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক এ–সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করে। পরের বছর ১৭ জানুয়ারি ব্যাংক এশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এ সেবা চালু করে। পরে ধীরে ধীরে অন্যান্য ব্যাংকও এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৫৮ লাখ ৩২ হাজার ৯৮১। চলতি বছরের মার্চ শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৬৪ লাখ ৬৪ হাজার ২০৩-এ। অর্থাৎ তিন মাসে নতুন হিসাব যুক্ত হয়েছে ৬ লাখ ৩১ হাজার ২২৪টি।

ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদেরা মনে করছেন, ক্ষুদ্র সঞ্চয়কে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনার ক্ষেত্রে এজেন্ট ব্যাংকিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতিতে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এর অবদান বাড়ছে। তবে সংগৃহীত আমানত কতটা উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ হচ্ছে, সেটিও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর