সিরাজগঞ্জ: জেলায় ঈদ-পরবর্তী সময়ে গণপরিবহনে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন। অভিযানে আইন লঙ্ঘনের দায়ে বিভিন্ন পরিবহন ও বাস কাউন্টারকে মোট ৮৯ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত আদায় করা ভাড়া ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
শনিবার (৬ জুন) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এ অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুল হোসেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ঈদ উপলক্ষে এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রুটে যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি অর্থ আদায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসন এই বিশেষ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথমে শহরের প্রবেশদ্বার কড্ডার মোড় এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
অভিযানকালে কয়েকটি দূরপাল্লার ও স্থানীয় পরিবহনে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ সময় সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘনের দায়ে পাঁচটি বাসকে মোট ১৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পরিবহন কর্তৃপক্ষকে যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া অতিরিক্ত অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে আদালতের উপস্থিতিতেই সেই অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দল শহরের বাজার স্টেশন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। সেখানে কয়েকটি বাস কাউন্টারে টিকিটের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা আদায় এবং ভোক্তাদের অধিকার ক্ষুণ্ন করার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে তিনটি বাস কাউন্টারকে মোট ৭৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
অভিযান চলাকালে জেলা কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক কাজী সোহেল রানা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অভিযানের সার্বিক কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন।
স্থানীয় যাত্রীরা জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, ঈদ ও বিভিন্ন ছুটির সময়ে অনেক পরিবহন কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়ে তোলে। ফলে নিয়মিত তদারকি এবং কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, সাধারণ যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ এবং গণপরিবহন খাতে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। যাত্রীদের সঙ্গে কোনো ধরনের প্রতারণা বা হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।