Friday 12 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ক্যাপাসিটি চার্জ চুক্তি ও অসমাপ্ত প্রকল্পে বিপাকে সরকার: বিদ্যুৎমন্ত্রী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১২ জুন ২০২৬ ১৭:১২

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ – ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: বিদ্যুৎ খাতে পূর্ববর্তী সরকারের করা চুক্তিগুলো বিনিয়োগকারীদের পক্ষে একতরফাভাবে সাজানো হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

তিনি বলেন, এসব চুক্তির কারণে সরকার এখন বড় ধরনের আর্থিক ও আইনগত জটিলতার মুখে পড়েছে এবং আগের সরকারের রেখে যাওয়া “ব্যাগেজ” বহন করতে হচ্ছে।

শুক্রবার (১২ জুন)রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি চার্জ ব্যবস্থা গ্রিন গ্যারান্টির মাধ্যমে চালু করা হয়েছিল, যাতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা সহজে ব্যাংক ঋণ পেতে পারেন। তবে চুক্তিগুলো এমনভাবে করা হয়েছিল যে, সেখানে সরকারের স্বার্থের চেয়ে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়ে আলোচনা শুরু করেন এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠকও করেছেন। চীনা বিনিয়োগকারীরা তাকে জানিয়েছেন, হঠাৎ করে ক্যাপাসিটি চার্জ বন্ধ করে দিলে তাদের অর্থায়নকারী ব্যাংকগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা করাও সম্ভব হবে না।

জ্বালানি মন্ত্রী ব‌লেন, সরকার জোরপূর্বক এই ব্যবস্থা বন্ধ করতে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন সংকট সৃষ্টি হতে পারে। কারণ, অতীতে রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ না করে সেগুলোকে অলস বসিয়ে রাখা হয়েছিল এবং অধিকাংশ বিদ্যুৎ কেনা হয়েছে বেসরকারি কেন্দ্রগুলো থেকে। এর ফলে বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার বকেয়া দায় তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, ক্যাপাসিটি চার্জ ইস্যুতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়েছে। অনুকূল মতামত পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পূর্ববর্তী সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও অপচয়ের উদাহরণ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ৫ লাখ ডিজিটাল মিটার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এর মধ্যে ২ লাখ ৫০ হাজার মিটার দেশে আনা হলেও তিন বছরে মাত্র ৬৫টি মিটার চালু করা সম্ভব হয়েছে। বাকিগুলো গুদামে পড়ে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাকি ২ লাখ ৫০ হাজার মিটার সরবরাহ বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়ার পর দেখা যায়, আগেই সরবরাহকারীর কাছে জাহাজীকরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন চুক্তি বাতিল করলে সরবরাহকারী আদালতে গেলে সরকারের পক্ষে মামলায় জেতা কঠিন হবে।

ডিপিডিসির আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল প্রকল্প নিয়েও সমালোচনা করেন জ্বালানি মন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০৪০ সাল পর্যন্ত উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ৬৫টি সাবস্টেশন নির্মাণের কথা থাকলেও প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে মাত্র ৩৮টি সাবস্টেশনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

তার অভিযোগ, প্রকল্পের বাইরে শাহবাগ এলাকায় একটি টুইন টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক মানের সুইমিং পুল, জিমসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। অথচ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি নিজেই লাভজনক নয় এবং সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরশীল।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন অংশের কাজ ৩০ থেকে ৬০ শতাংশের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন প্রকল্প বন্ধ করে দিলে ইতোমধ্যে ব্যয় হওয়া বিপুল অর্থ অপচয় হবে, আবার প্রকল্প চালিয়ে নেওয়াও সরকারের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, অতীতের এসব সিদ্ধান্ত ও অনিয়মের দায় বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে এবং সেগুলো সমাধান করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর