Friday 19 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

প্রস্তাবিত বাজেট সবাইকে খুশি করার বাজেট: জাতীয় পার্টি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৫ জুন ২০২৬ ১৩:৫৮ | আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬ ১৭:৪৭

বাজেট বিষয়ে জাতীয় পার্টির সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা: জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম হোয়াম্মদ কাদের বলেছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট সবাইকে খুশি করার বাজেট। যে যা চেয়েছে সেটা সব দেওয়া হয়েছে। জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার জন্য এই বাজেট। কিন্ত তারা কোথা থেকে এই টাকা সংকুলান করবেন সেটি তারা নিজেরাও হয়তো বলতে পারবে না।

সোমবার (১৫ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল ইসলাম মিলনায়তনে ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটের উপর প্রতিক্রিয়া’ সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

গোলাম হোয়াম্মদ কাদের বলেন, অর্থমন্ত্রী বাজেটের রাজনৈতিক দর্শন হিসাবে তার বক্তৃতায় এবারের বাজেটকে ‘গনতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভূক্তি মূলক অর্থনীতির অগ্রযাত্রা’ হিসাবে ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে গনতান্ত্রিক বাজেট কি এটা পরিষ্কার হয়নি আমার কাছে। মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি বলতে উনি দরিদ্র জনগোষ্ঠিকে ব্যাপকভাবে সামাজিক সুরক্ষা জালের আওতায় আনার প্রস্তাব করেছেন। তাছাড়া সকল শ্রেণির মানুষের জন্য মোটামুটি যে যা চেয়েছে তা দেওয়ার অঙ্গীকার বাজেট ভূক্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, গতানুগতিকভাবে পূর্বের অর্থবছরের তুলনায় একটি নির্দিষ্ট হারে বৃদ্ধি করে পুরোনো পদ্ধতিতেই নতুন অর্থ বছরের বাজেট তৈরি ও উপস্থাপন করা হয়েছে।
নিত্যপন্যের বাজার নিয়ন্ত্রনে অনেক পন্যের আমদানি শুল্কে রেয়াত দিয়েছেন। জনআকাঙ্খা পূরনে বাজেট প্রস্তাবনায় নানান ধরনের বরাদ্দ রেখেছেন। এর সবকিছুই করা হয়েছে সাধারন জনগনকে স্বস্তি দেওয়ার জন্য। কিন্তু এসবকিছু বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান দেয়ার জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে যে আয়ের ক্ষেত্র দেখানো হয়েছে সেটা খুবই অনিশ্চিত।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, বাজেটে যে রাজস্ব আহরণের কথা বলা হয়েছে, সেটি কখনও সম্ভব নয়। দেশে ব্যবসা বান্ধব পরিবেশ নাই। কল কারখানা প্রতিনিয়ত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ৪০০ এর মত কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বেকারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ইরানে যুদ্ধের কারণে যেই ভয়াবহ অবস্থা, সেটি বাজেটে এসেছে বলে আমি মনে করি না।

তিনি বলেন, রাত ১০টার পর মানুষ রাস্তা দিয়ে হাঁটতে পারছে না। সবাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। সাধারণ মানুষ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর আস্থা রাখতে পারছে না। ফলে ব্যবসা বাণিজ্যে স্বাভাবিকতা থাকছে না।

তিনি আরও বলেন, প্রাক্কলিত পরিচালন ব্যায় প্রস্তাবিত বাজেটে দেখানো হয়েছে ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য এই খরচ কমানোর কোন সুযোগ নেই। বরং এই ব্যয় বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। সেক্ষেত্রে রাজস্ব আহরন সম্পূর্ন ব্যবহার করার পরেও আরো অতিরিক্ত ২ লাখ ২৯ হাজার ৬১১ কোটি টাকা ঘাটতি হবে। অর্থাৎ সরকার পরিচালনার জন্য রাজস্ব আহরনের পরেও দেশি এবং বিদেশি ঋনের মাধ্যমে ২ লাখ ২৯ হাজার ৬১১ কোটি টাকা ঘাটতি পূরন করতে হবে। উন্নয়ন ব্যায়ের বরাদ্দ আবার পূর্বেই প্রস্তাবিত বাজেটে উল্লেখিত বৈদেশীক ঋন ২ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা অতিরিক্ত প্রয়োজন হবে। সে হিসাবে মোট ঘাটতির পরিমান দাঁড়াবে ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা প্রায়। দেশি এবং বিদেশি ঋন দ্বারা এই ঘাটতি পূরন করতে হবে। অতিরিক্ত ঋণনির্ভর বাজেট সে বিচারে বাস্তবায়নযোগ্য নয় বলা যায়।

সারাবাংলা/এমএইচ/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর