Wednesday 17 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ইউএনএইচসিআর নির্বাহী কমিটির ব্যুরোর সভাপতির দায়িত্বে বাংলাদেশ

ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট
১৭ জুন ২০২৬ ১২:৩৮

ইউএনএইচসিআর-এর নির্বাহী কমিটির ব্যুরোর সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন নাহিদা সোবহান।

জেনেভায় জাতিসংঘ কার্যালয় এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) নির্বাহী কমিটির ব্যুরোর সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ১৯৫৯ সালে ইউএনএইচসিআর-এর নির্বাহী কমিটি কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে বাংলাদেশ এর আগে কখনো নির্বাহী কমিটির ব্যুরোতে দায়িত্ব পালন করেনি।

নির্বাহী কমিটির ব্যুরো হলো চার সদস্যবিশিষ্ট নেতৃত্ব কাঠামো, যা কমিটির কার্যক্রমে দিকনির্দেশনা প্রদান করে এবং বৈশ্বিক শরণার্থী ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতিসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ঐকমত্য গড়ে তুলতে সহায়তা করে। নির্বাহী কমিটির ব্যুরোতে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি ও নেতৃত্বের এই দায়িত্ব গ্রহণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক।

বিজ্ঞাপন

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় গ্রুপের অভ্যন্তরীণ পরামর্শক্রমে বাংলাদেশ সর্বসম্মত আঞ্চলিক প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয় এবং ভিন্ন দুটি আঞ্চলিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে সেই মনোনয়ন সমর্থন করে যা বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রতি বিভিন্ন আঞ্চলিক গ্রুপজুড়ে বিদ্যমান ব্যাপক সমর্থনের প্রতিফলন। পরবর্তীতে তার মনোনয়ন নির্বাহী কমিটির সকল ১১০ সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থন লাভ করে। সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের নির্বাচিত হওয়া নবনির্বাচিত বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থায় দেশের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের স্বীকৃতি বহন করে।

পেশাদার কূটনীতিক রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান রোম, জেনেভা ও কলকাতায় বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি জর্ডানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং কানাডায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পূর্বে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতিসংঘ অনুবিভাগের মহাপরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সে সময় তিনি ইউএনএইচসিআরসহ বিভিন্ন জাতিসংঘ সংস্থার সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। তিনি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক (এফডিএমএন) বিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্সের সদস্য-সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন, যা বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সম্পর্কিত জাতীয় নীতি, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের সমন্বয় তদারকি করে।

এই দায়িত্ব গ্রহণ মানবিক ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতিসংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশের গঠনমূলক নেতৃত্বের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বীকৃতির প্রতিফলন। বিশেষত, বাংলাদেশ বর্তমানে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের পক্ষে ধারাবাহিকভাবে সোচ্চার ভূমিকা পালন করছে- এই প্রেক্ষাপটে এ নির্বাচন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর