Monday 28 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

সচেতনতা ও প্রতিরোধে কমবে জলাতঙ্কে মৃত্যু: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩:৪৯

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

ঢাকা: রোগ হওয়ার পর নিয়ন্ত্রণের চেয়ে রোগ প্রতিরোধই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আগেভাগে সচেতনতা তৈরি এবং যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে জলাতঙ্কে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

তিনি বলেন, জলাতঙ্ক প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তুলা উন্নয়ন বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের দিবসটির প্রতিপাদ্য- ‘Stronger Together: একসাথে, আরও শক্তিশালী জলাতঙ্কমুক্ত বিশ্ব গড়ি’।

বিজ্ঞাপন

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে জলাতঙ্ক সম্পর্কে সচেতনতা তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও প্রান্তিক পর্যায়ে এ বিষয়ে সচেতনতা কম। ফলে সেখানে এ রোগে মৃত্যুর ঘটনাও বেশি দেখা যায়। তাই শহরের পাশাপাশি গ্রাম পর্যায়েও জলাতঙ্ক প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

এ লক্ষ্যে আগের মতো সারাদেশে জলাতঙ্ক প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, জনগণের কল্যাণ ও জনস্বার্থেই সরকারের সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়। মানুষ খাদ্যনিরাপত্তার পাশাপাশি খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা প্রাণীটি রোগমুক্ত ও নিরাপদ কি না, সে বিষয়েও সচেতন হচ্ছে। প্রাণীর রোগ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিও সরাসরি জড়িত। তাই প্রাণিস্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্যকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রাণিসম্পদ খাত দেশের প্রান্তিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে রোগ নিয়ন্ত্রণ, প্রাণীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং কৃষক ও খামারিদের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রান্তিক পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে আরও বেশি সেমিনার, প্রচার-প্রচারণা ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের তদারকি আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল আমিন।

এ সময় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বয়জার রহমান, পরিচালক (সম্প্রসারণ) ড. বেগম শামছুননাহার আহম্মদসহ অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের উপপরিচালক ডা. মো. আ. মান্নান মিয়া এবং পথ কুকুরের মাধ্যমে জলাতঙ্ক রোগ বিস্তার রোধ প্রকল্পের পরিচালক ডা. মেহেদি হাসান ভূঁইয়া।

মূল প্রবন্ধে দেশে জলাতঙ্কের বর্তমান পরিস্থিতি, রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম, কুকুরের টিকাদান কর্মসূচি এবং ২০৩০ সালের মধ্যে জলাতঙ্ক নির্মূলের লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হয়।

এর আগে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিতে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর, স্বাস্থ্য অধিদফতর, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, ভেটেরিনারিয়ান, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন।

সারাবাংলা/এমএমএইচ/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর