২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডীয় লেখক অ্যান কারসন। বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) সুইডেনের স্টকহোমে সুইডিশ একাডেমি এ পুরস্কারের ঘোষণা দেয়।
নোবেল কমিটি জানিয়েছে, ‘শাস্ত্রীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে সমকালীন সাহিত্যের জন্য নতুন নতুন রূপ সৃষ্টি করা সাহসী ও উদ্ভাবনী সাহিত্যকর্মের জন্য’ অ্যান কারসনকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ধ্রুপদি সাহিত্যের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। টরন্টোতে জন্মগ্রহণকারী কারসন তার রচনায় প্রাচীন গ্রিক ও রোমান সাহিত্যের বিভিন্ন কাহিনীকে ফুটিয়ে তোলেন। তার লেখায় প্রায়শই কবিতা, প্রবন্ধ ও কথাসাহিত্যের উপাদানের সংমিশ্রণ দেখা যায়।
অ্যান কারসনের উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘ইরোস দ্য বিটারসুইট’ (Eros the Bittersweet) যেখানে প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যে কামনার আনন্দ ও যন্ত্রণার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে; পদ্য-উপন্যাস ‘অটোবায়োগ্রাফি অফ রেড’ (Autobiography of Red); কবিতা ও গদ্যের সংকলন ‘মেন ইন দ্য অফ আওয়ার্স’ (Men in the Off Hours); ‘নর্মা জিন বেকার অফ ট্রয়’ (Norma Jeane Baker of Troy) যেখানে মেরিলিন মনরো ও হেলেন অফ ট্রয়ের মধ্যে তুলনা করা হয়েছে।
নোবেলের সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ১৯০১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সাহিত্যে মোট ১১৮ বার নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে ১২২ জনকে। তাদের মধ্যে নারী ছিলেন ১৮ জন।
২০২৫ সালে সাহিত্যে নোবেল পেয়েছিলেন হাঙ্গেরির লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই। ‘প্রলয়ঙ্করী আতঙ্কের মধ্যেও শিল্পের শক্তিকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করা তার আকর্ষণীয় ও দূরদর্শী সাহিত্যকর্মের’ জন্য তাকে পুরস্কৃত করা হয়।
সাহিত্যে নোবেল পাওয়া প্রথম নারী ছিলেন সুইডিশ লেখক সেলমা লাগেরলফ। ১৯০৯ সালে তিনি এ পুরস্কার পান। সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার সাতবার দেওয়া হয়নি- ১৯১৪, ১৯১৮, ১৯৩৫, ১৯৪০, ১৯৪১, ১৯৪২ ও ১৯৪৩ সালে। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অন্যান্য নোবেল পুরস্কারের সংখ্যাও কমে যায়।
চলতি বছর প্রতিটি নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকার সমপরিমাণ। কোনো বিভাগে একাধিক বিজয়ী থাকলে অর্থের পরিমাণ তাদের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হয়।