Wednesday 04 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণে মিলবে বিনা খরচে ইতালি যাওয়ার সুযোগ: মাহ্দী আমিন

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৩ নভেম্বর ২০২৬ ২১:৪১ | আপডেট: ৩ নভেম্বর ২০২৬ ২৩:৩১

বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন -ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের বিনা খরচে ইতালি যাওয়ার একটি বিশেষ সুযোগ সৃষ্টি হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। খুব শিগগিরই স্বল্পপরিসরে এই প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর হোটেল রিজেন্সিতে ‘ইতালিতে দক্ষ অভিবাসনের জন্য ভাষা, নাগরিক ও পেশাগত প্রশিক্ষণ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র একথা জানান। মাহ্দী আমিন বলেন, ইতালিয়ান ভাষা শিক্ষা, সুনির্দিষ্ট কর্মদক্ষতা অর্জন এবং পেশাগত সঠিক আচরণ ও মূল্যবোধ বিকাশে কার্যকর মডেলটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সরকার এই পূর্ণাঙ্গ কাঠামোটিকেই জাতীয় পর্যায়ে বৃহত্তর পরিসরে ছড়িয়ে দিতে এবং বিভিন্ন স্তরে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে চায়।

বিজ্ঞাপন
ইতালিয়ান দূতাবাস এবং তাদের আন্তর্জাতিক সহযোগী অংশীদারদের যৌথ উদ্যোগে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহ্দী আমিন দক্ষ, নিয়মতান্ত্রিক ও কম খরচে বৈদেশিক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা নির্বাচিত নতুন বাংলাদেশ সরকারের সুনির্দিষ্ট রূপকল্পের অন্তর্ভুক্ত বলে জানান। আয়োজকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার সাথে এই আয়োজনটি শতভাগ সংগতিপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, অভিবাসনপ্রত্যাশী কর্মীদের জন্য একটি সুশৃঙ্খল, নিয়মতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিদেশে কাজের পথ উন্মোচন করা জরুরি, যেখানে অভিবাসন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে এবং সম্ভব হলে তা শূন্য খরচে নিশ্চিত করা হবে। যৌথ এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের দক্ষ জনগোষ্ঠীর অভিবাসন প্রক্রিয়া আরও বেগবান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মাহ্দী আমিন।
দক্ষ অভিবাসন নিশ্চিতকরণে আন্তর্জাতিক সহযোগীদের অভিজ্ঞতা ও সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন খাতে এটি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তিনি জানান, এই সফল উদ্যোগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় ইতালির এই মডেলকে ভিন্ন ভিন্ন খাতে, অন্যান্য দেশে এবং নতুন ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।
সেমিনারে উপস্থিত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একমাত্র জনশক্তি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘বোয়েসেল’-এর প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, জাতীয় নীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে সবাইকে এক দল হয়ে অভিন্ন লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। ইতালি সরকারের এই ইতিবাচক উদ্যোগটি যাতে জাতীয় নীতিতে একীভূত হয়, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সকল নীতি সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে সংসদ সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এক হয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
ইতালির বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উপস্থাপিত সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনার ভূয়সী প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, এই দিকনির্দেশনা ও উদ্যোগসমূহ নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীর রূপকল্পের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি ভবিষ্যৎ কর্মপন্থায় নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে।
বর্তমানে ইতালিতে বসবাসরত আড়াই লাখেরও বেশি বাংলাদেশির অবদানের কথা স্মরণ করে মাহ্দী আমিন গর্ব করে বলেন, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও চিকিৎসার পাশাপাশি জনমানুষের পারস্পরিক সেতুবন্ধনে অভিবাসন সবসময়ই সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। ইতালির সমাজ ও মূলধারার অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশি প্রবাসীদের ভূমিকা যেমন অনস্বীকার্য, তেমনি তাঁদের প্রেরিত রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। প্রবাসী ভাইবোনদের প্রতিটি অর্জনের পেছনে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম, ত্যাগ ও সফলতার গল্প।
বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর মেধা ও যোগ্যতার কোনো ঘাটতি নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, মূল চ্যালেঞ্জ হলো সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান, দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক সুযোগ তৈরি করে দেওয়া।
নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের প্রতিটি পদক্ষেপে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, প্রবাসীদের কল্যাণে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ডের আদলে প্রবাসী ভাইবোনদের সার্বিক সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বোয়েসেলসহ অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দক্ষ অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও সহজতর করার ওপরও বিশেষ জোর দেন তিনি।
মাহ্দী আমিন জানান, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তরুণদের তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আজকের এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা যে ইতালিয়ান ভাষা, আধুনিক কাজের দক্ষতা এবং পেশাগত নিয়মকানুন শিখছেন, তা সরকারের তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমেরই বাস্তব প্রতিফলন। এই সফল আয়োজনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ইতালিয়ান ভাষাসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ভাষাকে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা কারিকুলামে নিয়মিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে মাহ্দী আমিন বলেন, আপনারা কেবল নিজেদের ক্যারিয়ারই গড়ছেন না, বরং বিশ্বমঞ্চে দক্ষ ও মর্যাদাপূর্ণ উপায়ে কাজ করার ক্ষেত্রে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এক একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন। আগামী দিনে ধাপে ধাপে ইতালির উদ্দেশে যাত্রা করার মাধ্যমে আপনাদের সামনে অমিত সম্ভাবনার দুয়ার উন্মুক্ত হবে।
​এই অনন্য উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য ইতালি দূতাবাস, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাসমূহ এবং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীদারদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
সেমিনারে আরো বক্তব্য দেন ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির বর্তমান রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মিশন প্রধান ড. লরা টম বন্ডে, ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির উপ-মিশন প্রধান ডা. ফেদেরিকো জামপারেল্লি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের উপ-প্রধান বাইবা জারিনা, ইতালিয়ান দূতাবাসের অভিবাসন উপদেষ্টা জুসেপ্পে দি জিওভান্নি প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, ইতালি অভিবাসন আইন ২০২৩-এর ২৩ ধারা অনুযায়ী, ইতালীয় শ্রম ও সামাজিক নীতি মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত প্রি-ডিপার্চার (প্রস্থান-পূর্ব) প্রশিক্ষণ প্রকল্পগুলো প্রতিবছর ‘ফ্লো ডিক্রি’র নির্ধারিত কোটার বাইরেও দক্ষ কর্মীদের বৈধভাবে প্রবেশের সুযোগ করে দেয়। এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মৌলিক ইতালীয় ভাষা শিক্ষা, ইতালির নাগরিকত্ব ও সমাজ সম্পর্কিত ধারণা এবং সংশ্লিষ্ট খাতের পেশাগত দক্ষতা। চলমান হোটেল ও রেস্তোরাঁ খাতের ‘টেস্ট’ প্রকল্পের আওতায় ‘ফ্রন্টিয়ার্স স্কিলস’-এর মাধ্যমে নির্বাচিত সম্ভাব্য অভিবাসী এবং ‘ফরম্যাজিঅনে’ টেক্সটাইল প্রকল্পের শিক্ষার্থীরাও এই সেমিনারে অংশ নেন।
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর