স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট :
ঢাকা : প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গারা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিচ্ছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের রাখাইন অঞ্চলের এই ঘটনা দুই দেশের সম্পর্ককে তিক্ততার পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ বিশ্বাস করে যে রোহিঙ্গা ইস্যুটির স্থায়ী সমাধান করতে কার্যকর পদেক্ষপ নিবে মিয়ানমার। বুধবার বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এন্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস) আয়োজিত সেমিনারে এমন মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ।
‘বৈশ্বিক পরিবর্তনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি’ বিষয়ে আলোচনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় এবং সুসম্পর্ক গড়ার নীতিতে বিশ্বাস করে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সু-সম্পর্ক বজায় রেখেছে বাংলাদেশ। আমাদের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে যে কোনো সময়ের তুলনায় এখন অনেক ভালো সম্পর্ক বিরাজ করছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সমাধানের বিষয়টি বাংলাদেশ প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সু-সম্পর্ক বজায় রাখার নীতিতে সমাধান করার চেষ্টা করছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের কর্মকাণ্ড দুই দেশের সম্পর্ককে তিক্ততার পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে। তারপরেও আমরা ধৈর্য্য ধরে রোহিঙ্গা ইস্যুটি সমাধানে মিয়ানমারের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি এবং সু-সম্পর্ক বজায় রাখার প্রাণপন চেষ্টা চালাচ্ছি। আমরা বিশ্বাস করি, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরত নিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী এবং টেকসই সমাধান করবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘গেল বছর ২০১৭ সালে বিশ্বের সবচেয়ে অমানবিক ঘটনা ছিল রোহিঙ্গা ইস্যু। গত আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলের রোহিঙ্গাদের ওপর যে অত্যাচার-নির্যআতন হয়, তা ছিল অবর্ণনীয়। প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। সীমান্তের মাত্র ৪০ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে ৩ মাসে সাড়ে ৬ লাখ রোহিঙ্গা জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। সব মিলিয়ে এক মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।’
সারাবাংলা/জেআইএল/জেডএফ