Monday 20 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ওরা এতিম রোহিঙ্গা শিশু, তাই!

জাকিয়া আহমেদ স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৬ ডিসেম্বর ২০১৭ ০৪:১৫ | আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১৭:০০
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

dav

জাকিয়া আহমেদ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

নিজ দেশ ছেড়ে বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে ওরা এসেছে। অসংখ্য রোহিঙ্গা শিশু। এদের মাথাগুনে সঠিক সংখ্যাটি এখন্ও কেউ বলতে পারেনি। তবে তা কয়েক লাখ। এরা কেউ এসেছে বাবার হাত ধরে, কেউ বা মায়ের। কিন্তু একটি বড় অংশ রয়েছে যারা বাবা-কিংবা মায়ের হাত ধরে নয় ছুটে এসেছে ছিন্নমূল হয়ে। ওরা বাবা-মাকে হারিয়েছে, হয়তো আগেই, নয়তো মিয়ানমার সরকারের নৃশংসতায়। কেউ হারিয়েছে বাবা-মা দুজনকে, কেউ বাবা, কেউবা আবার মা। জরিপ চালিয়ে ৩৬ হাজার ৩৭৩ জন এমন এতিম শিশু পাওয়া গেলেও এ সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন জরিপকারীরা।

কি আছে এই এতিম শিশুদের ভাগ্যে?

বিজ্ঞাপন

সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদফতর এসব এতিম শিশুদের পুর্নবাসনের জন্য কাজ করছে। জানিয়েছে, এই শিশুদের নিয়ে জরিপ শেষ হলে তাদের স্মার্ট কার্ড দেওয়া হবে, যাতে করে মিয়ানমার থেকে আসা এই ভাগ্যবঞ্চিত শিশুরা তাদের মৌলিক অধিকারগুলো পেতে পারে।

কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারা বলছেন, এসব শিশুর স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাসস্থান ও মানসিক স্বাস্থ্য সবকিছুই নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে বাংলাদেশ সরকার।

গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে বিশেষ এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে ১২ নভেম্বর প্রাথমিকভাবে শিশু শনাক্তকরনের কাজ শেষ হয়েছে। এরপর থেকে শিশুদের তথ্য নিয়ে সরেজমিনে কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা। একইসঙ্গে ভ্যালিডেশন (আইনি কাঠামোবদ্ধকরণ) কাজও চলছে। যেন ভবিষ্যতে যখন এসব শিশু নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে তখন কোনও আইনি জটিলতার মধ্যে পড়তে না হয়, জানান কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রথমে কর্মসূচিতে ‘রোহিঙ্গা শিশু’ কথাটি ব্যবহার করা হলেও এখন রোহিঙ্গা শব্দটি বাদ দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সরকারের তরফ থেকে। পরে এ কার্যক্রমের নাম রাখা হয়েছে, ‘মিয়ানমার ন্যাশনাল অরফান চাইল্ড’। শিশু আইন অনুযায়ী শূন্য থেকে ১৮ বছর বয়সীদের এ কার্যক্রমের অর্ন্তভুক্ত করা হচ্ছে বলে জানান তারা।

‘মিয়ানমার ন্যাশনাল অরফান চাইল্ড’ নামের এ কর্মসূচিতে এতিম শিশুদের সব ধরণের সুযোগ সুবিধার আওতায় আনার জন্যই বিশেষ এ প্রকল্পের কাজ হাতে নিয়েছে সরকার, সারাবাংলাকে বলছিলেন কক্সবাজার জেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা ও প্রকল্পের সুপারভাইজার মো এমরান খান।

সূত্র জানায়, জরিপে দেখা গেছে ৩৬ হাজার ৩৭৩ জন শিশুর মধ্যে শতকরা ২৮ শতাংশ শিশুর বাবা-মা কেউ নেই, বাকীদের কারও বাবা নেই। তবে এজন্য প্রথমে সরকার থেকে প্রাথমিকভাবে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মধুছড়া এলাকায় রোহিঙ্গাদের জন্য সাময়িকভাবে দেওয়া দুই হাজার একর জমির মধ্যে দুইশত একর জমি অধিগ্রহণ করার কথা বলা হলেও সে সিদ্ধান্তে এসেছে পরিবর্তন। কর্মকর্তারা জানান, এসব শিশু এক জায়গায় না রেখে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এমরান খান বলেন, এসব শিশুদের একই জায়গায় পুঞ্জিভূত করে না রেখে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আশেপাশে প্রায় ৫৫ টি অস্থায়ী ব্লক তৈরি করা হবে। তাতে করে এদের মানসিক স্বাস্থ্যের বেশি উন্নয়ন ঘটবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাবা-মা ছাড়া যেসব শিশু নিকট আত্মীয়ের কাছে রয়েছে, তাদের  লালন-পালনের জন্য ওই আত্মীয়দের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং শিশুটিকে লালন পালনের জন্য পরিবারটিকে নির্দিষ্ট হারে অর্থ দেওয়া হবে, শেষ তথ্য পর্যন্ত এই অর্থের পরিমান কত হবে তা নির্দিষ্ট করা হয়নি।

এসব শিশুদের সুশিক্ষার আওতায় আনা হবে জানিয়ে এমরান খান বলেন, তাদেরকে ফরমাল এডুকেশনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে এবং তাদের কমিউনিটির মানুষদেরকেই এসব স্কুলগুলোর শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে, যাতে করে ওদের ভাষাতেই ওরা লেখাপড়া করতে পারে।

পাশাপাশি এসব শিশুর মধ্যে ১০ বছরে বেশি বয়সের শিশুদের আমরা ‘লাইফস্টাইল এবং লাইভলিহুড ডেভলপমেন্ট ট্রেনিং’ দেব যাতে করে ভবিষ্যতে তাদের কোনও সমস্যা না হয়, বলেন এমরান খান।

তিনি বলেন, আমরা চাই, এসব শিশুদের সঠিকভাবে ‘কেয়ারিং এবং নার্সিং’র মাধ্যমে যোগ্য করে তুলতে যেন তারা তাদের অধিকার এবং স্বাধীনতা সর্ম্পকে সচেতন হয়-যেন তারা নিজেরাই নিজেদের অধিকার নিয়ে সচেতন হয়।’

কক্সবাজার জেলার সমাজসেবা অধিদফতরের উপ-পরিচালক প্রীতম কুমার চৌধুরী সারাবাংলাকে জানান, এই শিশুদের মধ্যে ১২ থেকে ১৮ বছরের মেয়েদেরকে আলাদা রাখা হবে এবং অন্যদের গ্রেডিং করা হবে।

তাছাড়া যারা প্রতিবন্ধী রয়েছে-তাদেরকেও পৃথকভাবে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই শিশুদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, তাদের মধ্যে অনেকেই মেধাবী। সুযোগ পেলে তারা ভালো করবে, তাই তাদেরকে ফরমাল এডুকেশনের মধ্যে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।

এতিম ও প্রতিবন্ধী শিশুদের অধিদফতরের পক্ষ থেকে র্স্মাট কার্ড দেওয়া হলেই তাদেরকে আমরা সুযোগ সুবিধার আওতায় আনতে পারবো, স্কুলে ভর্তি হবে তারা। তাদের মনোসামজিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দেওয়া হবে।

সমাজসেবা অধিদফতরের ঢাকা অফিসের উপপরিচালক সাজ্জাদুল ইসলাম কক্সবাজারে গিয়ে কাজ করেছেন এসব শিশুদের নিয়ে।

তিনি বলেন, এসব শিশুর জন্য গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে এতিম শিশুদের শনাক্তকরণের নির্দেশনা আসে সরকার থেকে। সেই অনুযায়ী আমরা কাজ করেছি এবং শিশু শনাক্তকরণের কাজ শেষ। এখন এসব শিশুদের সঙ্গে কীভাবে ট্রিট করা হবে, সে বিষয়ে কাজ হচ্ছে।

তবে যা কিছুই করা হচ্ছে তার মূলে রয়েছে ওদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো, এমনটা জানিয়ে সাজ্জাদুল বলেন, ওদের ফেরত যাওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখেই কাজ করতে হচ্ছে আমাদের।

https://www.youtube.com/watch?v=Q_CXdrFmN0E&t=8s

সারাবাংলা/জেএ/এমএম

বিজ্ঞাপন

আরো

জাকিয়া আহমেদ - আরো পড়ুন