Monday 02 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ভোটে জয় পেলেও ভাগ্য নির্ধারণ করবে আদালত

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:১০
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটে বিজয়ী হলেও বিএনপি মনোনীত চার প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করবেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এই চার প্রার্থী হলেন- চট্টগ্রাম-৪ আসনের আসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-২ আসনের সারোয়ার আলমগীর, শেরপুর-২ আসনের ফাহিম চৌধুরী এবং কুমিল্লা-১০ আসনের মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া।

ঋণখেলাপির অভিযোগে আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সংশ্লিষ্ট আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা যে লিভ টু আপিল করেছিলেন, তা মঞ্জুর করেছেন আপিল বিভাগ। আদালত আদেশে বলেছেন, তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। তবে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা যাবে না।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, ফাহিম চৌধুরীর দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অভিযোগ এবং মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্রে দলীয় প্রত্যয়নপত্র না থাকার বিষয়ে করা লিভ টু আপিলেও আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, তারা ভোটে বিজয়ী হলে ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ ও শপথগ্রহণে বাধা থাকবে না। তবে মামলায় আপিলকারীরা জয়ী হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা সংসদ সদস্য পদ হারাবেন।

আইনজীবীরা বলছেন, চার প্রার্থীর কেউ যদি নির্বাচনে পরাজিত হন। তাহলে এসব মামলার আর কোনো কার্যকারিতা থাকবে না।

সুপ্রিম কোর্টের সংবিধান সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চায়। এমন কোনো আদেশ দেওয়া হবে না। যাতে ঋণখেলাপিরা ফাঁকফোকর দিয়ে সুবিধা নিতে পারে। আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের মামলা শেষ পর্যায়ে থাকায় আদালত মনে করেছেন, তাদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদি তারা ঋণখেলাপি প্রমাণিত না হন এবং বিজয়ী হন। তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান বলেন, আপিল বিভাগের আদেশটি নতুন ও ব্যতিক্রমী। আগে এমন নজির দেখা যায়নি। নির্বাচন কমিশনেরই প্রথমে ঋণখেলাপিদের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া উচিত ছিল।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সাইফুল আলম ইজ্জল বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত ছিল ঋণখেলাপির অভিযোগ থাকা ব্যক্তিদের মনোনয়ন না দেওয়া। এখন যদি তারা আদালতে হেরে যান, তাহলে তা ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আসনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থী বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা হবেন।

পৃথক আসনের পরিস্থিতি

চট্টগ্রাম-৪ (আসলাম চৌধুরী)
তার প্রার্থিতা বহাল রেখে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেছে আপিল বিভাগ। তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। তবে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না।

চট্টগ্রাম-২ (সারোয়ার আলমগীর)
তার প্রার্থিতা ফিরিয়ে দিতে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে জামায়াত প্রার্থীর করা লিভ টু আপিল মঞ্জুর হয়েছে। আদালত বলেছেন, তিনি নির্বাচন করতে পারবেন। তবে ফলাফল স্থগিত থাকবে।

শেরপুর-২ (ফাহিম চৌধুরী)
দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অভিযোগে করা আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত থাকবে বলে আদেশ দিয়েছেন আদালত।

কুমিল্লা-১০ (মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া)
মনোনয়ন সংক্রান্ত লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে আদালত তাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। মামলার রায় অনুযায়ী তার সংসদ সদস্য পদ বহাল বা বাতিল হবে।

সারাবাংলা/টিএম/এসআর