ঢাকা: আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের ফাঁসির রায়কে প্রতিশোধস্পৃহা থেকে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, কোনো অপরাধের ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি হয়েছে—এতে ভীষণ খুশি হওয়ার চেয়ে সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হচ্ছে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের ফাঁসির রায় নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কী বলা হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি এই ব্যাপারটা নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করেছি। কেননা এই বাস্তবতা আমাদের মানতে হবে। এই বাস্তবতা মেনেই আসলে একটা না একটা ফর্মে নীতিমালার মধ্যে আনা দরকার আছে—এই আলাপটা করেছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা অনেকে বলি না যে ফাঁসির রায়ে আমরা ভীষণ খুশি হয়ে গেছি। কারো ফাঁসির রায় আসলে ভীষণ খুশি হওয়ার চাইতে যে জিনিসটা গুরুত্বপূর্ণ, আমার কাছে মনে হয় সেটা হচ্ছে—আমরা আমাদের সমাজে ন্যায়বিচারটা নিশ্চিত করতে পারছি কি না।’
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, অপরাধের যথাযথ বিচার এবং আইনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হওয়াকে তারা স্বাগত জানান। তবে সেটি প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে নয়।
‘এইরকম অপরাধ করার পরে তাদেরকে প্রপার… তারা যেহেতু ছিলেন না, থাকলে আরও ভালো হতো। তারা তাদের এগুলো কনটেস্ট করতেন। সেটার ভিত্তিতে আমরা বিশ্বাস করি, এটা আমরা ধারণা করি যে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া সম্ভব। এই শাস্তিগুলোকে আমরা ওয়েলকাম করি,’ বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘আবারও বলছি, এটা এই অর্থে না যে আমাদের প্রতিশোধস্পৃহা আছে। আমরা আমাদের সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই। আমাদের ঘোষণাপত্রে যে বলেছিলাম—আমরা সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই—সেটা নিশ্চিত হচ্ছে কি না, আমরা সেটা দেখতে চাই।’
গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার কর
গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার করসংক্রান্ত মামলার বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন হওয়ায় সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ কিছু করার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, ‘এটা আদালতের ব্যাপার। একটু মিসপারসেপশন ছিল। এখন ডিটেল অনেকের সামনে এসেছে—এই করের ব্যাপারে রায় কী হয়েছিল, সেই রায় কেন তখন কার্যকর হয়নি। এখন তাদেরকে দিতে বলা হয়েছে।’
তিনি বলেন, হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের ওই কর পরিশোধ করতে হবে। তারা চাইলে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যেতে পারেন।
‘সরকার এখানে আসলে কিছু করার নেই। এখন যে মামলা, তার গতিতে চলবে। তারা হয়তো এটা নিয়ে আবার আপিল বিভাগে যেতে পারেন। যদি সেটা তারা টিকিয়ে রাখতে না পারেন, তাহলে তাদেরকে এটা দিতে হবে,’ বলেন তিনি।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এ ক্ষেত্রে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বা অন্য কারও প্রতি সরকারের অনুরাগ-বিরাগের প্রশ্ন নেই। বিষয়টি বিচার বিভাগের এবং বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ক্রিপ্টোকারেন্সি
ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়ে জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে—এমনটি বলা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থাকে পাশ কাটানোর উদ্দেশ্যেই ক্রিপ্টোকারেন্সি তৈরি হয়েছে। ফলে এটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি জটিল।
‘ক্রিপ্টোকারেন্সি তৈরি হয়েছে স্টেটের যে ফিন্যান্সিয়াল সিস্টেম, সেটাকে বাইপাস করার জন্য। পৃথিবীতে মাত্র একটি দেশ ক্রিপ্টোকে স্বীকৃতি দিয়েছে,’ বলেন তিনি।
ক্রিপ্টো ট্রেডিংয়ের নীতিমালা করার ক্ষেত্রে এটিকে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের সঙ্গে এক করে না দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ফরেন কারেন্সি ট্রেডিং আলাদা জিনিস হতে পারে। কিন্তু ক্রিপ্টো না। আমরা যেন এই দুটোকে একত্র না করি।’
তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে খুব দ্রুত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসবে না।
‘স্যার’ সম্বোধন
কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ সম্বোধন করা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, কাউকে ‘স্যার’ বলা নিয়ে সমস্যা নেই; কিন্তু এটিকে বাধ্যতামূলক শর্তে পরিণত করা ভয়ংকর।
তিনি বলেন, ‘স্যার ডাকায় সমস্যা নেই। যে কেউ স্যার ডাকতে পারেন। কিন্তু এটাকে একটা শর্তের মতো জায়গায় নিয়ে যাওয়া খুব ভয়ংকর।’
আগের সময়ে কোনো কোনো অফিসে ‘স্যার’ না বলার কারণে সাংবাদিকদের প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।