রংপুর: বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সরকারের ‘স্লোগান ছিল সবার আগে বাংলাদেশ, কিন্তু জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করতে তারা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। নয়তো দিল্লির সঙ্গে নেগোসিয়েট করে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না কেন? তিনি অভিযোগ করেন, সরকার দলীয় স্বার্থ আদায়ে এগিয়ে গেলেও বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টায় রংপুর জিলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে তিনি একথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, রংপুরবাসীকে শোনানো হচ্ছে যে, বিরোধী দলে ভোট দেওয়ার কারণে তারা উন্নয়নের বরাদ্দ পাবেন না। এই অবহেলার রাজনীতির জবাব দেওয়া হবে রাজপথে।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালে আবু সাঈদের রক্তের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার চেতনাকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে রংপুরবাসী গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে এবং ১১ দলীয় জোটকে সমর্থন দিয়ে যে রায় দিয়েছেন, সেই রায় এখন অস্বীকার করা হচ্ছে।
সমাবেশে নাহিদ ইসলাম গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে হ্যাঁ ভোট দিয়েছেন। কিন্তু সেই রায় কোথায়’? তিনি ওসমান হাদি হত্যার বিচার প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা ওসমান হাদির বিচার পাইনি। যারা দেশে নেই তাদের মৃত্যুদণ্ডের রায় আসে, কিন্তু যারা দেশে আছে তাদের বিচার কেন হচ্ছে না? আমরা রায় কার্যকর দেখতে চাই’।
তিনি বলেন, সারাদেশে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সারের সংকট দেখা দিয়েছে। রংপুর অঞ্চলের মানুষ কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন, কিন্তু তাঁরা সার, গ্যাস ও বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। নাহিদ ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, সকল প্রতিষ্ঠানে নজিরবিহীন দলীয়করণ, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও সন্ত্রাসে ক্যাম্পাস ও এলাকাগুলো অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।
সমাবেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশজুড়ে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। শিশু, মা-বোন সবার নিরাপত্তা নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে জবাবদিহিতা দিচ্ছেন না, বরং জবাবদিহিতা চাইলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সিরাজগঞ্জে ১১ দলীয় জোটের এক নেতাকর্মীর ওপর হামলার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘এই ঘটনা সত্যি হলে জবাব রাজপথেই দেওয়া হবে। ১১ দলের নেতাকর্মীর গায়ে হাত তোলা হলে পাল্টা আঘাতের জন্য আমরা প্রস্তুত’।
নাহিদ ইসলাম বলেন, পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়নি, বরং পুলিশকে আবারও বিরোধী দল দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ‘বাংলাদেশের ছাত্রজনতা আর কাউকে স্বৈরাচারী হতে দেবে না। যদি কেউ সেই চেষ্টা করে, রংপুরের মাটি থেকেই প্রথম বিদ্রোহের আহ্বান আসবে’। সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, লংমার্চ প্রমাণ করেছে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণ সামনের যেকোনো বড় আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত।