ঢাকা: নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন,আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সম্পন্ন করার বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে নির্বাচনী প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এই নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও আধুনিক করার লক্ষ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথেও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে কমিশন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন-এর সঙ্গে বৈঠক করেন ইউনেস্কো (UNESCO)-এর তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। বৈঠকে মূল আলোচনার বিষয় ছিল ইসির ‘ব্যালট প্রজেক্ট’।
বৈঠক শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে আলোচনার বিস্তারিত তুলে ধরেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
ইসি সচিব বলেন, ইউনেস্কোর প্রতিনিধিদলের সঙ্গে প্রধানত নির্বাচন কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের পেশাগত প্রশিক্ষণ (ট্রেনিং) প্রদান নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং সংবাদকর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে এই প্রশিক্ষণ বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমান যুগে নির্বাচনকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য বা অপপ্রচার রোধ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই নির্বাচনকেন্দ্রিক ‘মিসইনফরমেশন’ (ভুল তথ্য) ও ‘ডিসইনফরমেশন’ (উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার) প্রতিরোধে কীভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখা যায়, সে বিষয়েও ইউনেস্কোর সাথে ইসি’র গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।
অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উল্লেখ করেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সময়সূচিসহ বিভিন্ন প্রস্তাবনা উঠে এসেছে। নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কিংবা প্রয়োজন সাপেক্ষে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে কমিশন এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারির সুষ্ঠু ও সফল নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশার যে উচ্চ মানদণ্ড তৈরি হয়েছে, কমিশন তা ধরে রাখা ও আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি সামগ্রিক স্থানীয় পরিবেশ মূল্যায়ন করেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।