Sunday 11 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

প্রশ্ন ফাঁসে জড়িতদের চাকরিচ্যুত ও গ্রেফতারের দাবি আখতারের

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১০ অক্টোবর ২০২৬ ১৬:২৩ | আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:৩২

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: যুব উন্নয়ন অধিদফতরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে চাকরিচ্যুত ও গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে ‘সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী বাকস্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ দাবি জানান তিনি।

আখতার হোসেন বলেন, ‘প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে চাকরিচ্যুত করতে হবে, গ্রেফতার করতে হবে এবং আইনের আওতায় আনতে হবে। পরীক্ষায় অংশ নিতে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা চাকরিপ্রার্থীরা এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।’

বিজ্ঞাপন

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনীর সমালোচনা করে এনসিপির সদস্যসচিব বলেন, ‘এ সংশোধনী কার্যকর হলে গুজব, অপতথ্য ও মানহানির অভিযোগ তুলে বিভিন্ন অনিয়ম ও সংকট নিয়ে কথা বলা নাগরিকদের হয়রানি করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।’ এ আশঙ্কা থেকে তিনি প্রস্তাবিত সংশোধনী থেকে সরে এসে নাগরিকদের বাক্‌স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষকে গ্রেফতার ও হয়রানি করা হয়েছিল। সাংবাদিক, লেখকসহ সাধারণ মানুষও এ আইনের শিকার হন। লেখক মুশতাক আহমেদের কারাগারে মৃত্যুর ঘটনাও ওই আইনের অপপ্রয়োগের ভয়াবহতা তুলে ধরে।’

আখতার হোসেন বলেন, ‘অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে অন্তর্বর্তী সরকার সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ প্রণয়ন করেছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল অনলাইন অপরাধ মোকাবিলার পাশাপাশি নাগরিকদের অযাচিত গ্রেফতার ও হয়রানির সুযোগ সীমিত রাখা। কিন্তু বর্তমান সরকারের প্রস্তাবিত সংশোধনীতে অপরাধের সংজ্ঞা অস্পষ্ট ও ব্যাপক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বাকস্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।’

সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ না করে এবং এককভাবে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করে সরকার গণভোটের রায় ও জাতীয় ঐকমত্যকে উপেক্ষা করছে। বিএনপি সরকারের এ পদক্ষেপকে তিনি আওয়ামী লীগ আমলের কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার সঙ্গে তুলনা করেন।

তার ভাষ্য, ‘অতীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে সংবিধান সংশোধনের ফলে এক-এগারোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বর্তমান সরকারও সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে নিজেদের মতো করে সংবিধান সংশোধনের পথে এগোচ্ছে, যা ভবিষ্যতে নতুন সংকটের জন্ম দিতে পারে।’

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনীর সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘সরকার-সমর্থকদের গালিগালাজ, গুজব ছড়ানো ও মানহানিকর বক্তব্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, সরকারের সমালোচনা করায় বিরোধীদলের নেতা-কর্মী কিংবা সাধারণ মানুষকে আইনের আওতায় আনার আশঙ্কা রয়েছে। অস্পষ্ট আইনের মাধ্যমে এভাবে জনগণের মধ্যে ভীতি তৈরি হতে পারে।’

দেশের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে আখতার হোসেন বলেন, ‘চাঁদাবাজি, লুটপাট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মতো সংকট মোকাবিলায় সরকার কার্যকর সমাধান দিতে পারছে না।’ এলপিজির নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির পেছনে সিন্ডিকেটের ভূমিকা থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিক্ষাবিদ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুমসংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির সাবেক সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস।

আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার, ডেইলি ওয়াদার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ, লেখক ও বিশ্লেষক অপূর্ব জাহাঙ্গীর এবং এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা। সভাটি সঞ্চালনা করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক অ্যাডভোকেট আরমান হোসাইন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর