Tuesday 12 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

নাহিদ রানার গতির ঝড়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট জয়

স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট
১২ মে ২০২৬ ১৬:৫৯ | আপডেট: ১২ মে ২০২৬ ২১:৪৯

দুই ইনিংস মিলিয়ে পাকিস্তানের সামনে ২৬৮ রানের লিড দাঁড় করিয়েছিল বাংলাদেশ। তারপর আবদুল্লাহ ফজল, সালমান আলী আগার ব্যাটে পাকিস্তান জবাব দিচ্ছিল দারুণভাবেই। একটা সময় পাকিস্তানকেই ম্যাচে এগিয়ে মনে হচ্ছিল। কিন্তু ম্যাচের শেষ সেশনে নাহিদ রানা বল হাতে রীতিমতো ঝড় তুললেন। নাহিদ ঝড়েই ভেঙে গেছে পাকিস্তানের প্রতিরোধ।

একাই পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে কঠিন অবস্থান থেকে বাংলাদেশকে ম্যাচ জিতিয়েছেন নাহিদ রানা। নিজের স্পেলের পাঁচ ওভারে পাকিস্তানের চার উইকেট তুলে নিয়ে অনেকটা একাই বাংলাদেশকে জয় এনে দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের নতুন গতি তারকা নাহিদ।

পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ পর্যন্ত থেমেছে ১৬৩ রানে। যাতে মিরপুর টেস্টে ১০৪ রানের জয়  পেয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। এ নিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা তিন টেস্ট জিতল বাংলাদেশ। পাকিস্তান সফরে গিয়ে দুই টেস্টের সিরিজে ২-০তে জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার মিরপুরে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিলো নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১২ মে) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুই ইনিংস মিলিয়ে পাকিস্তানের সামনে ২৬৮ রানের লিড দাঁড় করিয়েছিল বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পাওয়া বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ উইকেটে ২৪০ তুলে ইনিংস ঘোষণা করে।

বাংলাদেশ যখন ইনিংস ঘোষণা করল তখন টেস্টের দুই সেশনেরও কম খেলা বাকি। এই সময়ের মধ্যে ম্যাচের ফল বের হওয়া নিয়েই ছিল বড় শঙ্কা। কিন্তু নাহিদ রানা শেষ বিকেলে বল হাতে যা করলেন সেটা রীতিমতো বিস্ময়কর। বিশেষ করে সেট ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ঘণ্টায় ১৪৮ কি.মি. গতির এক ডেলিভারিতে যেভাবে বোকা বানালেন সেটা ছিল দেখার মতো।

বাংলাদেশকে উইকেট এনে দেওয়ার সূচনা করেছিলেন অবশ্য তাসকিন আহমেদ। দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতে ইমাম-উল হককে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানান তাসকিন। এরপর মেহেদি হাসান মিরাজ আর নাহিদ রানা টানা দুই উইকেট এনে দিয়েছেন বাংলাদেশকে।

দলীয় ৫৭ রানের মাথায় আগের ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান আজন আওয়াইচকে (১৫) ফেরান মিরাজ। খানিক বাদে পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদকে (২) ফেরান নাহিদ রানা। এরপর আবদুল্লাহ ফজলের সঙ্গে শক্ত একটা জুটি গড়ে পাকিস্তানকে ম্যাচে ফিরিয়েছিলেন সালমান আলী আগা।

ম্যাচটা ধীরে ধীরে বাংলাদেশের হাত থেকে যখন দূরে চলে যাচ্ছিল তখন এই দুজনকেও পর পর ফিরিয়েন তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ। ১১৩ বল খেলে ১১ চারে ৬৬ রান করেন ফজল। আর ২৬ রান করা সালমান আলী আগাকে ফিরেছেন তাসকিন আহমেদ।

ম্যাচের বাকি গল্পটা শুধুই নাহিদ রানাময়। সাউদ সাকিল ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের ব্যাটে আবারও শক্ত অবস্থানে যাচ্ছিল পাকিস্তান। নাহিদ রানা সেই জায়গা থেকে বাংলাদেশকে ম্যাচ জিতিয়েছেন। পাকিস্তানের মিডিল ও লোয়ার অর্ডারকে স্রেফ গুড়িয়ে দিয়েছেন।

টানা পাঁচ ওভারের স্পেলে তুলে নিয়েছেন একে একে চার উইকেট। বাংলাদেশের স্মরণীয় জয় নিশ্চিত হয়েছে তাতেই। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬৩ রানে থেমেছে পাকিস্তান। মোহাম্মদ রিজওয়ান, সাউদ সাকিল ১৫ রান করে করেছেন।

শেষ পাঁচ ওভারে চার উইকেট নেওয়া নাহিদ রানা সব মিলিয়ে ৯.৫ ওভার বোলিং করে ৪০ রান দিয়ে নিয়েছেন ৫ উইকেট। এছাড়া তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলাম নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। বাকি উইকেটটি মেহেদি হাসান মিরাজের।

বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেমেছিল ৪১৩ রানে। সেঞ্চুরি করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। বড় দুটি ইনিংস খেলেন মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিম। পরে পাকিস্তান গুটিয়ে যায় ৩৮৬ রানে। বাংলাদেশের হয়ে পাঁচ উইকেট নেন মেহেদি হাসান মিরাজ। পরে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস ২৪০ রানে থামলে পাকিস্তানের সামনে টার্গেট দাঁড়ায় ২৬৮ রান।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর