Wednesday 07 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

‘আবরার ফাহাদ জাতীয়তাবাদী শক্তির অনন্য এক উজ্জ্বল প্রতীক’

ঢাবি করেসপন্ডেন্ট
৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:৫১

আবরার ফাহাদের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকীতে ঢাবি ছাত্রদল কর্তৃক আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তৃতা করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সগৃহীত

ঢাকা: শহিদ আবরার ফাহাদকে দেশের জাতীয়তাবাদী শক্তির অনন্য এক উজ্জ্বল প্রতীক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, এই প্রতীককে কেউ অবগুণ্ঠন করে রাখতে পারবে না, একে কখনও কুণ্ঠিত করতে পারবে না।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অডিটোরিয়ামে শহিদ আবরার ফাহাদের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কর্তৃক আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

দেশ ও জাতির প্রশ্নে জাতীয়তাবাদী শক্তি কখনো আত্মসমর্পণ করবে না বলেও মন্তব্য করেন অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছি, সবকিছু করছি। কিন্তু দেশের প্রশ্নে, জাতির প্রশ্নে আমরা কখনোই আত্মসমর্পণ করব না। আমরা আমাদের যে অস্তিত্ব, আমাদের যে ভূমি—এটিকে রক্ষার জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই করব।’

বিজ্ঞাপন

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, “আবরার ফাহাদের আত্মদানের মধ্য দিয়ে ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচাগ্র মেদিনী’ কথাটি নতুন করে প্রমাণিত হয়েছে।” তিনি বলেন, ‘তোমরা হয়তো অনেক কিছুই করতে পার, অনেক চুক্তি করতে পার। কিন্তু জনগণ বিনা যুদ্ধে আমার স্বার্থের বাইরে কিছু যায়, সেখানে আপস করবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আবরারের আত্মদান শুধু একটি নিছক হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখলে হবে না। তার ফেসবুক পোস্টের প্রতিটি শব্দ ছিল অত্যন্ত ধারাল, শানিত ও তীক্ষ্ণ। দেশের শত্রুদের বিরুদ্ধে, যারা বাংলাদেশকে করায়ত্ত করতে চায় এবং আগ্রাসী থাবার মধ্যে রাখতে চায়, তার বক্তব্য ছিল তাদের বিরুদ্ধে।’

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, ‘আবরার আক্রমণ ও হত্যার মধ্য দিয়ে তাকে ভয় পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, যাতে এ ধরনের কথা লিখলে আর কেউ সাহস না করে। কিন্তু সেই বার্তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বরং, আবরারের মৃত্যু গোটা জাতিকে আরও বেশি সংগঠিত করেছে এবং আগ্রাসী ও সম্প্রসারণবাদী শক্তির বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিরোধের শক্তির স্ফুরণ ঘটেছে।’

আবরার ফাহাদকে জাতীয়তাবাদী শক্তির অনন্য এক উজ্জ্বল প্রতীক উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী শক্তির বিভিন্ন সংগঠন এবং বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলো এই চেতনা ধারণ করে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলও এর অংশ।’ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও পতাকা রক্ষায় সবাইকে শেষ পর্যন্ত লড়াই করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘শহিদ আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ২০১৯ সালের ৮ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সর্বপ্রথম ছাত্রদল প্রতিবাদে নামে। ছাত্রলীগের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে সেদিন হাজার হাজার ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থী প্রতিবাদে শামিল হয়েছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আবরার ফাহাদের মতোই ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে শত শত ছাত্রদল নেতাকর্মীকে পৈশাচিক নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। অনেকের হত্যাকাণ্ডের কোনো সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বা ডকুমেন্টস পাওয়া যায়নি।’ ২০২৪ সালে গুম কমিশন গঠনের পরও অসংখ্য ছাত্রদল ও বিএনপি নেতাকর্মীকে চোখ বেঁধে, বালুর বস্তা বেঁধে বুড়িগঙ্গায় ভাসিয়ে দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি।

আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে প্রতিটি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের তালিকা করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান ছাত্রদল সভাপতি। তিনি ছাত্রলীগের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুন্তাসির আল জেমির কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন। এর নেপথ্যে বিশেষ কোনো গোষ্ঠী জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি ছাত্রলীগের বিচার ও তাদের প্রতিহত করার ক্ষেত্রে অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাকিব।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর