Thursday 08 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ঢাকার বাতাস আজও ‘অস্বাস্থ্যকর’

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৮ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৫২

ঢাকা: মেগাসিটি ঢাকা দীর্ঘদিন ধরেই বায়ুদূষণের ভয়াবহ এক চক্রে বন্দি। আজ বৃহস্পতিবার ( ৮ অক্টোবর ) সকালে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ার-এর সর্বশেষ চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রাজধানীর বাতাসের মান এখনো অস্বাস্থ্যকর পর্যায়েই রয়ে গেছে।

আইকিউএয়ারের ডাটাবেজ অনুযায়ী, ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স স্কোর ১৬৮, যা বাতাসের মানকে আন্তর্জাতিক স্কেলে ‘অস্বাস্থ্যকর’ শ্রেণিভুক্ত করে। একই সময় বৈশ্বিক দূষিত শহরের তালিকায় ২২৫ স্কোর নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর এবং ২০৭ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। এছাড়া কঙ্গোর কিনশাসা, ভারতের দিল্লি ও মুম্বাইয়ের মতো শহরগুলোও ঢাকার পাশাপাশি এই শীর্ষ দূষিত তালিকার ওপরের সারিতে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সাধারণত বাতাসে থাকা বস্তুকণা, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড এবং ওজোনের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে বায়ুমান নির্ধারণ করা হয়। পরিবেশ অধিদফতর ও বিশ্বব্যাংকের গবেষণা অনুযায়ী, ঢাকার বাতাসে এই বিষাক্ত উপাদানগুলোর প্রধান উৎস হলো আশপাশের অবৈধ ও অপরিকল্পিত ইটভাটার ধোঁয়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের নির্গমন এবং শহরজুড়ে অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণকাজের ধূলিকণা। সঠিক পরিকল্পনা ও তদারকির অভাবে প্রতিদিন এই উৎসগুলো থেকে নির্গত দূষণ ঢাকার বাতাসকে বিষাক্ত করে তুলছে।

দীর্ঘদিন বিষাক্ত বাতাসে শ্বাস নেওয়ার ফল অত্যন্ত ভয়াবহ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুসারে, বায়ুদূষণজনিত ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ৭০ লাখ মানুষ প্রাণ হারায়। ঢাকার দূষিত বাতাস কেবল সাধারণ অস্বস্তি তৈরি করছে না, বরং এটি মানুষের মধ্যে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যানসার এবং শিশুদের ক্ষেত্রে তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের হার বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ, অসুস্থ ব্যক্তি ও অন্তঃসত্ত্বা নারীরা বায়ুদূষণের কারণে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।

বায়ুদূষণের এই জটিল সংকট নিরসনে কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। নির্মাণকাজ এলাকাগুলো ঢেকে রাখা ও নিয়মিত পানি ছিটানো নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইটভাটাগুলোতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্য করতে হবে। একই সাথে সড়কে পুরোনো ও বিষাক্ত ধোঁয়া ছাড়া যানবাহন চলাচল বন্ধ করা এবং নগরজুড়ে পরিকল্পিত সবুজায়ন বাড়ানো জরুরি। বাতাস অতিরিক্ত অস্বাস্থ্যকর থাকলে মাস্ক ব্যবহার করা এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়া নাগরিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি কিছুটা কমাতে পারে। নগরবাসীকে দীর্ঘমেয়াদে এক ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য সংকট থেকে রক্ষা করতে বায়ুদূষণ প্রতিরোধে কঠোর আইনি প্রয়োগ ও সমন্বিত নগর পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই।

 

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর