গাইবান্ধা: জেলার দুই উপজেলায় মানুষ ও গরুকে কামড়ানো সেই কুকুর ও শিয়ালের নমুনা পরীক্ষায় র্যাবিস ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরিতে (সিডিআইএল) পরীক্ষা শেষে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জোবাইদুল কবীর। এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর প্রাণিসম্পদ বিভাগ প্রাণী দুটির মাথার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার সিডিআইএলে পরীক্ষার জন্য পাঠায়।
গত ২০ সেপ্টেম্বর সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের জিগাবাড়ী ও তালুক বেলকা গ্রামে শিয়ালটির কামড়ে ৪ শিশুসহ ৯ জন আহত হয়েছেন। তাদের মুখ, ঠোঁট, কপাল ও হাতে কামড়ের ক্ষত হয়। পরে স্বজনেরা আহতদের উদ্ধার করে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং র্যাবিস প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় টিকা ও আরআইজি দেওয়া হয়। এছাড়া শিয়ালটির কামড়ে দুটি গরুও আক্রান্ত হয়েছে। পরে স্থানীয়রা কুকুর ও শিয়াল দুটিকেই পিটিয়ে মেরে ফেলেন।
এর পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে সাদুল্লাপুর উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নের হাটবামুনী গ্রামে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফিরছিল শিশু সিনথিয়া। পথে একটি কুকুর তাকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে কুকুরটি তার গলায় কামড় দেয়। এতে শিশুটির শ্বাসনালিতে গভীর ক্ষত হয় এবং সে গুরুতর আহত হয়। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সিনথিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় রাকিব হোসেন (২৬) নামে এক যুবক আহত হন।
দুই ঘটনার পর প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের নির্দেশনায় ২১ সেপ্টেম্বর সুন্দরগঞ্জের শিয়াল ও সাদুল্লাপুরের কুকুরটির মাথার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গত ২২ সেপ্টেম্বর আক্রান্ত এলাকায় যায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব বিভাগের উচ্চপর্যায়ের একটি পর্যবেক্ষণ দল। চার সদস্যের দলটি ওই দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সাদুল্লাপুর ও সুন্দরগঞ্জের তিনটি আক্রান্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে। তারা বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি স্থানীয়দের কাছ থেকে ঘটনার তথ্যও নেন। একই সঙ্গে সুন্দরগঞ্জে অসুস্থ গাভীর মাংস কাটার ফলে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হওয়ার তথ্য ও নমুনাও সংগ্রহ করে দলটি। পরে র্যাবিস রোগ নিশ্চিতকরণ ও ল্যাব গবেষণার জন্য নমুনা দুটি ঢাকার সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। পরীক্ষায় প্রাণী দুটির শরীরে র্যাবিস ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়।
গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জোবাইদুল কবীর বলেন, ‘২১ সেপ্টেম্বর প্রাণী দুটির নমুনা সংগ্রহ করে রোগ নিশ্চিতকরণ ও ল্যাব গবেষণার জন্য ঢাকার সিডিআইএলে পাঠানো হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তারা নিশ্চিত করেছেন, প্রাণী দুটি র্যাবিস ভাইরাসে আক্রান্ত ছিল।’
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে শিয়ালের কামড়ে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সাদিয়া স্নিগ্ধা বলেন, শিয়ালের কামড়ে আহত ৯ জনের মধ্যে পাঁচজনের মুখ, ঠোঁট ও কপালে কামড়ের ক্ষত রয়েছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামরুল হাসান বলেন, শিয়ালের কামড়ে আহত ৯ জনকেই ঘটনার দিন র্যাবিস ভ্যাকসিন ও র্যাবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিন (আরআইজি) দেওয়া হয়েছে। পরদিন তাদের দ্বিতীয় ডোজ ভ্যাকসিনও নিশ্চিত করা হয়েছে। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর তাদের তৃতীয় ডোজ দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। ভ্যাকসিনের পরবর্তী ডোজগুলোও নিশ্চিত করা হবে।’