Thursday 08 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

নিষেধাজ্ঞার আগমুহূর্তে লক্ষ্মীপুরের হাটে-ঘাটে ছিল ইলিশ বেচাকেনার ধুম

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৮ অক্টোবর ২০২৬ ১১:০৩

শেষ মুহূর্তে ইলিশ কিনতে বাজারে ক্রেতারা।

লক্ষ্মীপুর: মা ইলিশের প্রজনন সুরক্ষায় মেঘনা নদীতে ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে লক্ষ্মীপুরের হাটে-ঘাটে বসেছিল ইলিশ বেচাকেনার ধুম।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে মাছ ধরা বন্ধ হওয়ার ঘোষণায় নদী ও সাগর থেকে বিপুল পরিমাণ ইলিশ নিয়ে তীরে ফেরেন জেলেরা।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, হাটে-ঘাটে ক্রেতাদের ছিল উপচে পড়া ভিড়। তবে দাম চড়া থাকা সত্ত্বেও মা ইলিশ সংরক্ষণের এই নিষেধাজ্ঞার দিনগুলোতে খাওয়ার জন্য অনেকেই বাড়তি মাছ কিনে রেখে দিয়েছেন। সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত সদরের মজু চৌধুরী হাট, কমলনগরের মতিরহাট ও বাতিরখাল মাছঘাট এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

বিজ্ঞাপন

শেষ মুহূর্তে প্রচুর মাছের দেখা মেলায় জেলে ও ব্যবসায়ীদের মাঝে উৎসবের আমেজ দেখা গেলেও, সরকারি সহায়তা পৌঁছাতে দেরি হওয়া এবং এনজিও ঋণের চাপ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন উপকূলের হাজারো জেলে।

জেলেদের দাবি, তারা নিয়ম মেনেই অভিযানের সময় মাছ শিকারে নদীতে নামেন না। এজন্য নৌকা ধুয়েমুছে, নোঙর করে নদীর কূলে রেখে বৈঠা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন তারা।

ইলিশের হাটে আসা ক্রেতারা জানান, বছরের এই সময়টাতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুরু হলে বাজারে আর ইলিশ পাওয়া যাবে না। তাই হাটে ইলিশের দাম তুলনামূলক চড়া থাকা সত্ত্বেও ইলিশ কিনে ফ্রিজে রেখে দিচ্ছি। আগামী ২২ দিন নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকবে, তাই দাম একটু বেশি পড়লেও অন্তত ইলিশের স্বাদ পাওয়া যাবে।

ইলিশ কিনতে আসা কয়েকজন বলেন, নিষেধাজ্ঞার ঠিক আগমুহূর্তে মাছের হাটে যেমন মানুষের উপচে পড়া ভিড়, তেমনি বিক্রেতারাও সুযোগ বুঝে দাম হাঁকাচ্ছেন বেশি। সাধারণ মধ্যবিত্তের জন্য এই চড়া দামে ইলিশ কিনে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এখন আগামী ৩ সপ্তাহ ইলিশের দেখা মিলবে না, যার কারণে চাষের মাছ বা অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের বাজারেও অতিরিক্ত দামের প্রভাব পড়বে—এ নিয়ে আমরা বেশ চিন্তায় আছি।

জেলা মৎস্য বিভাগ জানায়, লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত মেঘনা নদীর ১০০ কিলোমিটার এলাকায় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এ সময় নদীতে নামলে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড অথবা ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।

লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, এ জেলায় প্রায় ৫৪ হাজার নিবন্ধিত জেলে রয়েছে। এর মধ্যে ৪২ হাজার ১৫০ জন কার্ডধারী জেলেকে ভিজিএফ-এর আওতায় আনা হয়েছে। তারা প্রত্যেকেই নিষেধাজ্ঞাকালীন ২৫ কেজি করে চাল পাবেন। আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এই অভিযান চলবে। এ সময় নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা, আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মজুতকরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইন অমান্য করলে জেল-জরিমানাসহ উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

 

 

সারাবাংলা/এসআর/ এএ
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর