একটা সময় বাংলা চলচ্চিত্রের পর্দায় তার উপস্থিতি ছিল নিয়মিত ও একচ্ছত্র। একসময় মাসে একাধিক সিনেমা মুক্তি পেত তার, আর শাকিব খানের বিপরীতে সেই ছবিগুলো প্রেক্ষাগৃহে আসার পর ব্যবসাসফল হয়ে ব্যবসায়িক নতুন রেকর্ড গড়ত। তবে সময়ের পরিক্রমায় ঢালিউডের সেই সোনালি দিনের কর্মব্যস্ততায় চরম পরিবর্তন এসেছে। ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা অপু বিশ্বাস এখন যেন বড় পর্দায় প্রায় অনুপস্থিত। বছরে দুটি সিনেমাতেও তার দেখা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ২০২৪ সালে সর্বশেষ ‘ছায়াবৃক্ষ’ ও ‘ট্র্যাপ- দ্য আনটোল্ড স্টোরি’ সিনেমায় অভিনয় করার পর দীর্ঘ সময় ধরে বড় পর্দায় আর কোনো দেখা মেলেনি এই চিত্রনায়িকার। বর্তমানে নতুন সিনেমার শুটিংয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন করপোরেট শোরুম উদ্বোধন এবং সামাজিক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবেই তাকে বেশি দেখা যাচ্ছে।
একসময়ের জনপ্রিয় ও ব্যস্ততম নায়িকা হওয়া সত্ত্বেও কেন সিনেমার কাজ কমিয়ে দিলেন সেই প্রশ্নের জবাব অপু বিশ্বাস নিজেই স্পষ্ট করেছেন। সম্প্রতি একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি জানান, তার সন্তান আব্রাম খান জয়কে এখন প্রচুর সময় দিতে হয়। মা ও ছেলের মধ্যকার মানসিক টান ও ঘনিষ্ঠতা এতটাই বেশি যে সন্তানের দেখাশোনার জন্য তাকে নিজের কাজের শিডিউল কমিয়ে আনতে হয়েছে। মূলত সন্তানকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়ার কারণেই চলচ্চিত্র থেকে কিছুটা দূরে সরে এসেছেন বলে জানান এই নায়িকা।
দীর্ঘদিন বিরতির পর অপু বিশ্বাস সম্প্রতি ‘শিকার’ নামের একটি নতুন চলচ্চিত্রে যুক্ত হয়েছেন। ছবিটির দৃশ্যধারণের কাজে তাকে নেপালের ছায়াঘেরা পর্যটন শহর পোখারা এবং মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া জেলায় টানা প্রায় এক মাস অবস্থান করতে হয়। ওই সময় নেপালের পাহাড়ি এলাকায় প্রতিকূল ও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে ছেলেকে ছেড়ে দূরে থাকার অভিজ্ঞতা তাকে মানসিকভাবে বেশ ব্যথিত করে। শুটিং চলাকালীন সন্তান ক্রমাগত তাকে ফোন করে বাড়ি ফেরার জন্য ব্যাকুলতা প্রকাশ করত। মাতৃ হৃদয়ের সেই উৎকণ্ঠা পেরিয়ে কাজ শেষ করে দেশে ফিরে আবারও স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ঢালিউডের এই গুণী অভিনেত্রী।