ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসের বিশেষ দিনে তার ছেলে আব্রাম খান জয়ের সাথে কাটানো কিছু মিষ্টি ও আবেগঘন মুহূর্ত নেটিজেনদের মন জয় করে নিয়েছে। সম্প্রতি অপুর জন্মদিনে মা ও ছেলের ঘরোয়া উদযাপনের কয়েকটি ছবি ফেসবুকে শেয়ার করা হয়েছে। ছবিগুলোতে মা ও ছেলের মধ্যকার ভালোবাসা ও গভীর আত্মিক টান স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।
শেয়ার করা ছবিগুলোতে দেখা যায়, মা অপু বিশ্বাসের বিশেষ এই দিনটিতে তার প্রিয় চকলেট কেক নিয়ে হাজির হয়েছে ছেলে জয়, যার ওপর সুন্দরভাবে লেখা রয়েছে ‘হ্যাপী বার্থডে মম, আই লাভ ইউ’। উদযাপনের এসব মুহূর্তে দুজনকে বেশ মানানসই লুকে দেখা গেছে; মা ও ছেলে দুজনই টুইনিং করে পরেছিলেন সাদা রঙের টি-শার্ট এবং কালো প্যান্ট। একটি ছবিতে দেখা যায়, ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে মা অপুর গালে পরম আদরে চুমু দিচ্ছে জয়। অন্য এক ছবিতে দুজনকে একসাথে কেকের সামনে বসে মিষ্টি হাসি মুখে পোজ দিতে দেখা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের অফিসিয়াল পেজ থেকে ছবিগুলো পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয় ‘হ্যাপী বার্থডে, মাই প্রিন্সেস মামি’। পোস্টটি নজর কাড়তেই কমেন্ট বক্সে ভক্ত ও অনুরাগীদের ভালোবাসার বন্যা বয়ে যায়। শুভাকাঙ্ক্ষীরা কমেন্টে মা-ছেলের সুন্দর কেমিস্ট্রি ও ভালোবাসার দারুণ প্রশংসা করেন এবং প্রিয় নায়িকাকে জন্মদিনের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় ও শীর্ষস্থানীয় নায়িকা অপু বিশ্বাস দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজের অভিনয় প্রতিভা, সৌন্দর্য এবং মিষ্টি হাসির মাধ্যমে দর্শকদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছেন। ঢাকাই চলচ্চিত্রে তার পথচলা এবং তারকা হয়ে ওঠার গল্পটি বেশ বর্ণিল। শৈশব থেকেই সংস্কৃতির প্রতি অনুরাগ এবং নাচের প্রতি গভীর ভালোবাসার কারণে খুব অল্প বয়সেই তিনি মিডিয়া জগতের দিকে আকৃষ্ট হন। সময়ের সাথে সাথে নিজের পরিশ্রম এবং মেধার জোরে তিনি হয়ে ওঠেন ঢালিউডের অন্যতম চাহিদাসম্পন্ন ও সফল একজন বাণিজ্যিক নায়িকা।
অপু বিশ্বাসের জন্ম ১৯৮৯ সালের ১১ অক্টোবর বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও সংস্কৃতিসমৃদ্ধ শহর বগুড়ায়। তার মূল বা সার্টিফিকেট অনুযায়ী পুরো নাম অবন্তী বিশ্বাস, তবে চলচ্চিত্র অঙ্গনে তিনি ‘অপু বিশ্বাস’ নামেই বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। তার বাবার নাম উপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস এবং মায়ের নাম শেফালী বিশ্বাস। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। তার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে বগুড়াতেই। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি বুলবুল ললিতকলা একাডেমি এবং পরবর্তীতে নৃত্যাঞ্চল থেকে নাচের ওপর পেশাদার ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। নাচ ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে সম্পৃক্ত থাকার ফলেই তার শোবিজ অঙ্গনে প্রবেশ করা সহজ হয়েছিল।
চলচ্চিত্রের সোনালী ভুবনে অপু বিশ্বাসের অভিষেক ঘটে ২০০৬ সালে আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘কাল সকালে’ সিনেমার মাধ্যমে। তবে তাকে বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের মূল ধারায় জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে দেয় একই বছরে মুক্তিপ্রাপ্ত এফ আই মানিক পরিচালিত সুপারহিট সিনেমা ‘কোটি টাকার কাবিন’। এই সিনেমায় শীর্ষ নায়ক শাকিব খানের বিপরীতে তার অসাধারণ অভিনয় দর্শকের মন জয় করে নেয়। এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একে একে ‘চাচ্চু’, ‘দাদীমা’, ‘পিতার আসন’, ‘কোটি টাকার প্রেম’, এবং ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’-র মতো অসংখ্য ব্যবসাসফল ও ব্লকবাস্টার সিনেমা তিনি ঢালিউডকে উপহার দিয়েছেন। কর্মজীবনে তিনি ৭২টিরও অধিক চলচ্চিত্রে সফলভাবে অভিনয় করেছেন এবং দর্শকদের প্রচুর ভালোবাসা অর্জন করেছেন। পাশাপাশি তিনি স্বনামধন্য বিভিন্ন শাখায় পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন, যার মধ্যে বাচসাস পুরস্কার অন্যতম।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অভিনেতা শাকিব খানের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং তাদের কোলজুড়ে আসে একমাত্র সন্তান আব্রাহাম খান জয়। পরবর্তীতে তাদের পথ আলাদা হয়ে গেলেও একজন আদর্শ ও দায়িত্বশীল মা হিসেবে তিনি তার সমস্ত মনোযোগ ও সময় উৎসর্গ করেছেন একমাত্র ছেলে জয়ের লালন-পালন ও সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য। সম্প্রতি ছেলের সাথে কাটানো তার বিশেষ জন্মদিনের মুহূর্তগুলো এবং ঘরোয়া উদযাপনের মিষ্টি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেলে তা ভক্তদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। মা ও ছেলের এই গভীর বন্ধন ও ভালোবাসা সবসময়ই নেটিজেনদের মুগ্ধ করে।
বর্তমানে অপু বিশ্বাস চলচ্চিত্র অঙ্গনে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন এবং বেশ কিছু নতুন প্রজেক্ট নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বড় পর্দার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন স্টেজ শো, ব্র্যান্ড প্রমোশন এবং মিডিয়া ইভেন্টেও সমানভাবে সরব রয়েছেন। তার অভিনীত সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাগুলোর মধ্যে ‘লাল শাড়ি’, ‘প্রেম প্রীতির বন্ধন’ এবং ‘ছায়াবৃক্ষ’ বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এছাড়া তার হাতে রয়েছে আরও কিছু নতুন সিনেমার কাজ। ব্যক্তিগত জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তিনি এখন একজন পরিণত ও সফল নারী হিসেবে নিজের পেশাগত ক্যারিয়ার এবং সন্তানকে নিয়ে অত্যন্ত গোছানো ও সুন্দর জীবন অতিবাহিত করছেন। রূপালী পর্দার গ্ল্যামার আর বাস্তব জীবনের পরিপক্বতার এক চমৎকার ভারসাম্য বজায় রেখে তিনি আজও বাংলা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মনে রাজত্ব করে চলেছেন।