Wednesday 15 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বইয়ের পাতায় ডুব দেওয়ার বিশেষ দিন আজ

ফারহানা নীলা সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:১৩

ব্যস্ত এই নাগরিক জীবনে আমাদের হাতের মুঠোয় এখন সারাক্ষণের বিনোদন। স্মার্টফোনের স্ক্রিনে আঙুলের ডগায় যখন হাজারো তথ্যের মেলা, তখন ধুলো জমা বইয়ের তাকগুলো যেন এক কোণায় পড়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। ঠিক এই যান্ত্রিকতা থেকে মুক্তি দিতে এবং মানুষকে বইয়ের সান্নিধ্যে ফিরিয়ে আনতে প্রতি বছর ১৫ এপ্রিল পালিত হয় আন্তর্জাতিক ‘ড্রপ এভরিথিং অ্যান্ড রিড’ বা সংক্ষেপে ডিইয়ার (D.E.A.R) ডে। দিনটির নামকরণের মধ্যেই লুকিয়ে আছে এর মূল উদ্দেশ্য; সব কাজ একপাশে সরিয়ে রেখে অন্তত ৩০ মিনিটের জন্য কোনো একটি পছন্দের বই হাতে তুলে নেওয়া। এটি কেবল পড়ার দিন নয়, বরং যান্ত্রিকতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজের কল্পনাশক্তির সাথে নতুন করে সংযোগ স্থাপনের একটি উৎসব। এই চমৎকার উদ্যোগটি মূলত জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক বেভারলি ক্লিয়ারির বইয়ের একটি কাল্পনিক ধারণা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শুরু হয়েছিল, যা এখন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

দিনটির পেছনের গল্প

এই দিবসটির শেকড় লুকিয়ে আছে জনপ্রিয় মার্কিন লেখিকা বেভারলি ক্লিয়ারির কালজয়ী কিশোর উপন্যাসের পাতায়। তার ‘রমোনা কোয়াম্বি, এজ এইট’ বইটিতে প্রথম এই ‘ডিইয়ার’ কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। সেখানে দেখানো হয়েছিল যে ক্লাসের সব শিক্ষার্থী একটি নির্দিষ্ট সময়ে তাদের সব কাজ ফেলে রেখে শান্ত হয়ে বই পড়ে। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে এই লেখিকার ৯৫তম জন্মদিনে তাকে সম্মান জানিয়ে প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই দিবসটি পালন করা হয়। যদিও শুরুতে এটি শিশুদের বই পড়ার অভ্যাস তৈরির জন্য শুরু হয়েছিল, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এটি সব বয়সের মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে এটি কেবল আমেরিকার কোনো অনুষ্ঠান নয়, বরং সারাবিশ্বের পাঠাগার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পাঠকদের কাছে একটি অত্যন্ত কাঙ্ক্ষিত দিনে পরিণত হয়েছে যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে যান্ত্রিকতার ভিড়ে কাগজের ঘ্রাণ এখনো অমলিন।

বই পড়াকে কেনো প্রাধান্য দিবেন?

আমাদের প্রতিদিনের রুটিন এখন সেকেন্ডের কাঁটায় বাধা। মেইল চেক করা, সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করা কিংবা ঘরের কাজ সামলাতে গিয়ে আমরা ভুলেই যাই যে মস্তিষ্কেরও বিশ্রামের প্রয়োজন আছে। ডিইয়ার ডে আমাদের সেই সুযোগটাই করে দেয়। বিজ্ঞান বলে, প্রতিদিন অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট নিরবচ্ছিন্নভাবে বই পড়লে মানুষের মানসিক চাপ প্রায় ৬৮ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। যখন আপনি ‘সব কাজ ফেলে’ বই হাতে নেন, তখন আপনার মস্তিষ্ক একটি গভীর ধ্যানমগ্ন অবস্থায় চলে যায় যা মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা বাড়ায় এবং স্মৃতিশক্তিকে ধারালো করে। এটি কেবল জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং ডিজিটাল ডিটক্স বা যান্ত্রিকতা থেকে মুক্তির একটি দারুণ দাওয়াই। তাই এই দিনে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য ছাড়াই কেবল আনন্দের জন্য পড়া আমাদের ভেতরের সৃজনশীল সত্তাকে নতুন করে জাগিয়ে তোলে।

উদযাপনের কিভাবে করবেন?

এই দিবসটি পালনের জন্য আপনাকে কোনো বিশাল আয়োজন বা লাইব্রেরিতে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আপনার পড়ার টেবিলের এক কোণায় জমে থাকা সেই প্রিয় উপন্যাসটি কিংবা অনেকদিন ধরে পড়ব বলে ভাবা কোনো জীবনীগ্রন্থ আজই হাতে তুলে নিন। ১৫ এপ্রিলের যেকোনো এক সময়ে ঘড়িতে ৩০ মিনিটের একটি অ্যালার্ম দিয়ে ফোনটি দূরে সরিয়ে রাখুন। এরপর চা বা কফির কাপ হাতে নিয়ে বারান্দায় বা ঘরের শান্ত কোনো কোণায় বসে বইয়ের পাতায় হারিয়ে যান। আপনি চাইলে আপনার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বা বন্ধুদের সাথে নিয়েও এই সময়ে একসাথে পড়তে পারেন। এই ছোট একটি পদক্ষেপ কেবল আপনার একদিনের আনন্দ নয়, বরং সারা বছরের জন্য বই পড়ার একটি সুন্দর অভ্যাস গড়ে তোলার প্রথম ধাপ হতে পারে। মনে রাখবেন, বই হলো সেই জাহাজ যা আপনাকে ঘরে বসেই অচেনা সব দেশে ভ্রমণ করিয়ে আনতে পারে।

বিজ্ঞাপন

আরো

ফারহানা নীলা - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর