শরীয়তপুর: জেলার সদর উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতা ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খান ভাসানী বিএনপিতে যোগদানের এক সপ্তাহের মাথায় তার বসতবাড়িসহ ১২ টি ঘরে অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে সদর উপজেলার শৌলপাড়া ইউনিয়নের চরগয়ঘর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় ৩টি ঘরে অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি ৯টি আধাপাকা টিনের ঘর-দোচালা টিনের ঘরে অগ্নিসংযোগ ও কুপিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থল থেকে ৩টি ককটেল উদ্ধার করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায় , সদর উপজেলার শৌলপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খান ভাসানী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। তিনি গত ১৭ জানুয়ারি বিএনপির একটি সভায় শরীয়তপুর-১ আসন বিএনপি প্রার্থী সাঈদ আহমেদের হাত ধরে ৫ শতাধিক সমর্থক নিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেন। পরে গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি স্ত্রী সন্তানের কাছে দুবাইতে চলে যায় । এরপর শুক্রবার দিনগত রাতে তার বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হামলা চালানো হয়। পাশাপাশি তার সমর্থকদের ৯টি ঘরে অগ্নিসংযোগ, কুপিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। ভাসানী খান ও তার সমর্থকরা বিএনপিতে যোগদান নিয়ে স্থানীয় কিছু বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়।
শরীয়তপুর-১ আসন বিএনপি প্রার্থী সাঈদ আহমেদ আসলাম বলেন, প্রতিহিংসার রাজনীতি আমি চাই না। ঘরে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তিরা ছিলেন তাদের কি অবস্থা হতো চিন্তা করেন। যেভাবে ভাঙচুর- লুটপাট করা হয়েছে এটা মানুষের কাজ হতে পারে না। এভাবে মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি করলে সেটা যেই হোক তার বিচার করতে হবে। দলীয় কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এবিষয়ে চিকন্দী পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক গোলাম রসুল বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। আমরা ঘটনাস্থল থেকে তিনটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করেছি। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।