Thursday 07 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঠাকুরগাঁওয়ে ২ শিক্ষার্থীর জন্য ৫ শিক্ষক, কার্যত অচল বিদ্যালয়

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৫৭ | আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:০৭

ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষক থাকলেও উপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা থাকে হাতেগোণা কয়েকজন।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের পি. এ. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে একজন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করছেন একজন নারী শিক্ষক। দ্বিতীয় শ্রেণিতে আরেকজন শিক্ষক একজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে ক্লাস নিচ্ছেন। বাকি শিক্ষকরা অফিসকক্ষে বসে সময় পার করছিলেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, কাগজে-কলমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৪। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক ১৪ জন, প্রথম শ্রেণিতে নয়জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে আটজন, তৃতীয় শ্রেণিতে ১০ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে সাতজন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ছয়জন রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন উপস্থিতি সংখ্যা মাত্র ২৫-৩০ জনের মতো হয়। অনেক সময় দ্বিতীয় শিফটে বিদ্যালয় প্রায় ফাঁকাই থাকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষকরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না। এলেও যথাযথভাবে পাঠদান হয় না। দুপুরের পর অনেক সময় বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয় না। নিয়ম অনুযায়ী হোম ভিজিটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের তথ্য সংরক্ষণের কথা থাকলেও বিদ্যালয়ে তার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলতে গেলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গণমাধ্যমকর্মীদের অনুসরণ করেন। ফলে তার উপস্থিতিতে কেউ কথা বলতে রাজি হননি। পরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বিদ্যালয়ের পাশেই প্রধান শিক্ষকের বাড়ি হওয়ায় তার প্রভাব রয়েছে। এ কারণে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না।

তাদের মতে, আশপাশে কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি বিদ্যালয় গড়ে ওঠায় অভিভাবকেরা সেদিকে ঝুঁকছেন। পাশাপাশি শিক্ষকদের অবহেলাও শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোপাল চন্দ্র রায় বলেন, ‘এলাকায় বেসরকারি বিদ্যালয় বাড়ায় আগের তুলনায় শিক্ষার্থী কমে গেছে। আমরা শিক্ষার্থীদের স্কুলে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাহিম উদ্দিন জানান, ‘গত ২৬ এপ্রিল ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিনুর ইসলাম শোকজ করেছেন। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর