Friday 01 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ভুয়া সনদে ২০ বছর চাকরি, সাড়ে ১৪ লাখ টাকা ফেরতের নির্দেশ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১ মে ২০২৬ ১০:১০

দাউদপুর বালিকা বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ভুয়া সনদে চাকরি অভিযোগ উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত

দিনাজপুর: জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর বালিকা বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে এনটিআরসিএ-এর ভুয়া নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে জালিয়াতির মাধ্যমে উত্তোলন করা সরকারি বেতন-ভাতার ১৪ লাখ ৪০ হাজার ৯০০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানা ২০০৬ সালে জাল নিবন্ধন সনদের মাধ্যমে নিয়োগ পান। দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের পর ২০১৯ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের (ডিআইএ) এক পরিদর্শনে তার সনদটি জাল বলে ধরা পড়ে। পরে সনদটি যাচাইয়ের জন্য ২০২২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর এনটিআরসিএ বরাবর চিঠি পাঠানো হয়। পরিদর্শক টুটুল কুমার নাগের প্রতিবেদনে সনদটি ভুয়া উল্লেখ করা হলেও এতদিন কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বিজ্ঞাপন

২০২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ জানায় যে, রেবেকা সুলতানার সনদটি সঠিক নয়। ফলে তার নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি এবং তিনি সরকারি বেতন-ভাতার প্রাপ্য নন। প্রতিবেদনে ২০০৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত তার গ্রহণ করা মোট ১৪ লাখ ৪০ হাজার ৯০০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানা জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি নিবন্ধন পরীক্ষা দিয়েই সনদ পেয়েছি। অডিট প্রতিবেদনে কেন এমন এলো তা বুঝতে পারছি না। বিষয়টি পরিষ্কার করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুনরায় জমা দিয়েছি।’

বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ফজলুল হক জানান, শিক্ষিকার সনদটি জাল বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বনিক জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন। আনুষ্ঠানিক কপি হাতে পেলে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমান এবং জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার মো. আলাউদ্দীন আল আজাদ উভয়েই জানিয়েছেন, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সারাবাংলা/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর