কুমিল্লা: কুমিল্লা ইপিজেডের বর্জ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতে প্রয়োজনে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বন ও পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেছেন, ইপিজেডের বর্জ্যের কারণে কৃষক ও স্থানীয় পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।
রোববার (৩১ মে) বিকেলে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর মহিলা কলেজ মাঠে বর্জ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এ বিষয়ে আমি প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে আপনাদের জন্য প্রয়োজনে আদালতে যেতেও রাজি আছি।’
তিনি বলেন, ‘শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য সুস্থ পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ এবং আমার দল আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা আমি সুষ্ঠুভাবে পালন করব।’
সম্প্রতি পরিদর্শন করা গুংইঙ্গাজুরি খালের দূষিত পানির অবস্থা দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, ‘খালের পানি দেখে খুব মন খারাপ হয়েছে। পরিবেশ এমন হওয়ার কথা নয়। আমি স্বচক্ষে পরিস্থিতি দেখেছি। এ সপ্তাহের মধ্যেই ইপিজেড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব। তারা কোন মন্ত্রণালয়ের অধীনে, সেটি বিবেচ্য বিষয় নয়; তাদের বর্জ্যের কারণে যদি মানুষ ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইপিজেড যেমন দেশের অর্থনীতির জন্য প্রয়োজন, তেমনি একটি সুস্থ পরিবেশও সমানভাবে প্রয়োজন। আপনাদের খালের পানি যেন দূষিত না হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমার। আমি আমার দায়িত্ব পূর্ণাঙ্গভাবে পালন করব।’
স্থানীয়দের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি যদি দায়িত্ব পালন না করি, তাহলে তো এই রাস্তা দিয়েই যাতায়াত করি, আপনারা আমার গাড়ি আটকে দেবেন।’
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা-৬ (সদর ও সদর দক্ষিণ) আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আমিরুজ্জামান ভুঁইয়া, কৃষকদলের সভাপতি মোস্তফা জামান, সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আখতার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ফারুক চৌধুরীসহ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের সদস্যরা।
সভায় স্থানীয় কৃষকরা ইপিজেডের বর্জ্যের কারণে কৃষিজমি, খাল ও পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।