গাইবান্ধা: গাইবান্ধা শহরের বুক চিরে শান্তভাবে বয়ে চলেছে ঘাঘট নদ। সাধারণ সময়ে এর স্রোত শান্ত ও নিয়ন্ত্রিত থাকলেও ভরা বর্ষায় এটি রুদ্র রূপ ধারণ করে। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে পানিতে টইটম্বুর হয়ে ওঠা এই নদী তখন দুই তীরের জনপদকে প্লাবিত করার সুযোগ খুঁজে নেয়।
এই সম্ভাব্য বিপদ থেকে শহরকে রক্ষা করতে ঘাঘট তীরজুড়ে বেলে দোআঁশ মাটি দিয়ে নির্মিত হয়েছে শহর রক্ষা বাঁধ। ফলে সাম্প্রতিক কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিতে বাঁধের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত ও খাদ তৈরি হয়েছে। কোথাও মাটি সরে গিয়ে ঢালু অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে, আবার কোথাও বৃষ্টির পানির স্রোতে ক্ষয়ের চিহ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শহর রক্ষার নামে নির্মিত এই বাঁধের বড় অংশই বালুভিত্তিক হওয়ায় ভারী বর্ষণ শুরু হলেই বৃষ্টির পানি সরাসরি মাটি কেটে নিচে নেমে যাচ্ছে। এতে বাঁধের গায়ে তৈরি হচ্ছে ছোটো ছোটো খাঁজ, যা ধীরে ধীরে বড় ফাটলে রূপ নিচ্ছে।
ডেভিড কোম্পানি পাড়া এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘প্রতিবার বৃষ্টি হলেই বাঁধের মাটি সরে যায়। মনে হয় বাঁধটা ধীরে ধীরে নদীর দিকে গলে যাচ্ছে। বড় বৃষ্টি হলে কী হবে, সেটা নিয়েই চিন্তা।’
সরকার পাড়ার বাসিন্দা রাবেয়া বেগম বলেন, ‘২০১৯ সালে এই বাঁধ ভাঙার কারণেই পুরো শহর বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। আমরা চাই না, এমন দিন আর ফিরে আসুক। কিন্তু এভাবে যদি ভাঙন বাড়তে থাকে, তাহলে যে কোনো সময় পানি শহরে ঢুকে পড়তে পারে। রাতের বেলা বেশি ভয় লাগে, মনে হয় কখন জানি বাঁধ ভেঙে যায়।’
কোমরনই এলাকার স্থানীয় যুবক সুমন মিয়া বলেন, ‘বাঁধটা মূলত বালুর মতোই। একটু বৃষ্টি হলেই পানি কেটে নিয়ে যায়। কোনো শক্ত সুরক্ষা দেখছি না।’
এদিকে এ পরিস্থিতি নিয়ে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবু সায়েম শফিউল ইসলাম বলেন, ‘বাঁধের কিছু অংশে রেইন কাট ও ক্ষয় দেখা দিয়েছে, তবে পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তার কারণ নেই। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে ঠিকাদারের মাধ্যমে খুব শীঘ্রই সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। পানি বৃদ্ধির বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী জিওব্যাগ ও বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে, যাতে বড় ধরনের ক্ষতি না হয়।’