ঢাকা: ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী বলেছেন, কোনো অপশক্তিই ভয় দেখিয়ে বাঙালির চিরায়ত গান ও সংস্কৃতিকে থামিয়ে রাখতে পারবে না।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের প্রথম প্রভাতে রাজধানীর রমনার বটমূলে নতুন বছরকে বরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাঙালির সঙ্গীত কেবল বিনোদন নয়, বরং এটি আনন্দ, বেদনা, মিলন ও বিরহের চিরসাথী এবং আমাদের সকল অধিকার আদায়ের আন্দোলনের প্রধান অবলম্বন। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সম্প্রীতির যে বন্ধন এই সঙ্গীত তৈরি করে, তা থেকে বাঙালিকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র সফল হবে না।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে সারওয়ার আলী বিগত বছরের কিছু অপ্রীতিকর ও দুঃসহ স্মৃতির কথা স্মরণ করেন। তিনি জানান, গত বছরও রমনার বটমূলে শান্তিপূর্ণভাবে নববর্ষ পালিত হয়েছিল এবং ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানও হয়েছে সুশৃঙ্খলভাবে। কিন্তু তার পরবর্তী সময়ে ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে ভাঙচুর, সংবাদপত্রের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ এবং উদীচীসহ বাউল শিল্পীদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাগুলো গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
২০০১ সালে রমনার বটমূলে ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ বোমা হামলার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, সমাজে অসহিষ্ণুতা এবং মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে দলবদ্ধ নিগ্রহের আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছে।
বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট টেনে ছায়ানট সভাপতি বলেন, বর্তমানে মার্কিন-ইসরায়েলি নিগ্রহের কারণে পারস্য সভ্যতা আজ সংকটের মুখে, যা বিশ্ববাসীকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। এই প্রতিকূল সময়ে নতুন বছরের সকালে তিনি বিশ্বশান্তির প্রার্থনা করেন।
ছায়ানট সভাপতি বলেন, বাঙালির সংস্কৃতির প্রকাশ যেন সবসময় নির্বিঘ্ন হয় এবং মানুষ যেন নির্ভয়ে শির উঁচু করে জ্ঞান ও সংস্কৃতির চর্চা করতে পারে।
‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’ রবীন্দ্রনাথের এই অমর পঙক্তির মাধ্যমে তিনি তার নববর্ষের বার্তা শেষ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সহস্রাধিক দর্শক-শ্রোতা করতালির মাধ্যমে তার এই বক্তব্যকে সমর্থন জানান।