ঢাকা: রাজধানী শেরে বাংলা নগর এলাকায় দ্বিতীয় স্ত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামসহ তিনজনকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় করা এ মামলায় গাজী নজরুল, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও ওবায়দুল রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’
ডিসি ইবনে মিজান বলেন, ‘সংসদ সদস্য গাজী নজরুলসহ তিন আসামিকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে কি না, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এর আগে, গতকাল রোববার সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ফ্ল্যাটটি গাজী নজরুলের। তিনি এই ফ্ল্যাটে তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন। ফ্ল্যাটটির একটি কক্ষের দরজা ভেঙে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে শেরে বাংলা নগর থানার পুলিশ, সিআইডি, পিবিআই ও ডিবির দল ঘটনাস্থলে যায়। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ওই ঘটনায় রোববার গভীর রাতে মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানায় মামলাটি করেন। মামলায় গাজী নজরুল, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও নজরুলের শ্যালক ওবায়দুল রহমানকে আসামি করা হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা গ্রামের এস. এম. মাসুম বিল্লাহ পেশায় একজন মুদি দোকানি। তার বড়ো মেয়ে মরিয়মের সঙ্গে গত জুনে ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের (৭৫) বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই ন্যাম ভবনের বাসায় গাজী নজরুল তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে নিয়ে বসবাস করতেন। বাসায় তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদাও (৬৫) থাকেন। এজাহারভুক্ত আসামি ওবায়দুলের (৩৮) প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় এ বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও তার প্রথম স্ত্রী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মকে শারীরি-মানসিক নির্যাতন করতেন। নির্যাতনের বিষয়টি মরিয়ম বিভিন্ন সময় মুঠোফোনে তার পরিবারকে জানাতেন। এরপর রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মরিয়মের বাবাকে ফোন করে দ্রুত ন্যাম ভবনের বাসায় যেতে বলেন গাজী নজরুল। খবর পেয়ে মরিয়মের বাবা তার শ্যালিকা সুফিয়াকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে পৌঁছান। সেখানে দেখতে পান, বাসায় অনেক মানুষের ভিড়। পরে তিনি জানতে পারেন, বাসার ভেতরের রুমে গলায় ফাঁস দিয়েছেন মরিয়ম। রুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। পরে শেরে বাংলা নগর থানা পুলিশের সহায়তায় ও উপস্থিত লোকজনের মাধ্যমে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মরিয়মকে ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। এ সময় মরিয়মের বিছানার ওপর থেকে একটি ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার করে পুলিশ।
চিরকুটের বিষয়ে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. ফজলুল করিম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, চিরকুটটি মরিয়মের হতে পারে। তবে লেখাটি মরিয়মের কিনা, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত করে বলা যাবে।’