ঢাকা: চট্টগ্রাম থেকে গভীর রাতে কুমিল্লায় বাস থেকে নামার পর টার্গেট করে কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীকে যাত্রী বেশে সিএনজিতে তুলে টাকা মোবাইল হাতিয়ে নিয়ে ছুরিকাঘাত করে ফেলে দিয়ে হত্যা করে ছিনতাইকারীরা। এ ঘটনায় জড়িত পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে র্যাবের লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী নিখোঁজের ১২ ঘণ্টা পর ২৫ এপ্রিল সকাল পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকার একটি হোটেলের পাশের ফুটপাত থেকে ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। ওই ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা জেলার সদরে মামলা দায়ের করেন।

এই ঘটনায় র্যাব-১১ কর্তৃক গ্রেফতার পাঁচজন হলেন- মো. সোহাগ, ইসমাইল হোসেন জনি, এমরান হোসেন হৃদয়, রাহাত হোসেন জুয়েল এবং মো. সুজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এছাড়াও গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলার লাকসাম রেলওয়ে থানায় একাধিক চুরি, ডাকাতি ও মাদক মামলা রয়েছে।
উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, গ্রেফতাররা একটি অপরাধ চক্রের সদস্য। কাস্টমস কর্মকর্তাকে হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত ছিল না। ছিনতাইকারীরা যাত্রী বেশে ছিনতাই করত। বুলেট বৈরাগী বাস থেকে নামার পর ছিনতাইকারীরা তাকে সিএনজিতে তোলে। একপর্যায়ে সিএনজির ভেতরে থাকা তিনজনের মধ্যে দুইজন তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার থেকে মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নিতে চায়। তখন সিএনজির ভেতরে থাকা আরেকজন ছুরি দিয়ে বুলেট বৈরাগীকে আঘাত করে।

তিনি বলেন, মারধরের একপর্যায়ে বুলেট বৈরাগী চলন্ত সিএনজি থেকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। তখন মাথার পেছনে আঘাত পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিক মারা যান।
নিহত বুলেট বৈরাগী ৪১তম বিসিএস (নন-ক্যাডার) হিসেবে কাস্টমস, এক্সারসাইজ ও ভ্যাট বিভাগে যোগ দেন এবং কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।