ঢাকা: রাজধানীর মিরপুরের ১১ নম্বরে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে (৭) ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে পুলিশের ধারণা। আর আলামত নষ্ট ও গুমের জন্য মরদেহের মাথা বিচ্ছন্ন করা হয়েছে বলেও মনে করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত পার্শ্ববর্তী ফ্ল্যাটের দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৯ মে) রাত সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘শিশু রামিসাকে সম্ভত যৌনাচার করার পর হয়তো ব্লিডিং হওয়ায় সেটি ধামাচাপা দিতে শিশুটিকে হত্যা করা হয় বলে আমাদের ধারণা। এরপর তার লাশ গুমের উদ্দেশ্যে মাথা ও হাত কেটে আলাদা করা হয়। কিন্তু ওই সময়ে শিশুটির মা তার মেয়েকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খুঁজতে খুঁজতে আসামিদের রুমে ঢোকার চেষ্টা করে। কিন্তু তারা দরজা খোলে না। পরে ঘাতক আসামি সোহেল রানা (৩০) জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়। এর পর ঘাতকের স্ত্রী দরজা খুললে রামিসার মাথা আলাদা করা দেহ দেখতে পান তার মা।’
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘হৃদয়বিদারক ও নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে এবং তার সহযোগী স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্পসংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।’
তিনি আরও বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্য ও আলামত সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা ও মৃতের শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা মাথাসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধার হয়েছে।’
শিশু রামিসা আক্তারের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান পুলিশের ডিসি।