Thursday 08 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

কুকি-চিন প্রধান নাথান বমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে সিআইডির মামলা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৮ অক্টোবর ২০২৬ ১৪:১১

নাথান বম। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) পোশাক তৈরিতে কোটি টাকার বেশি অর্থায়ন ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে সংগঠনটির প্রধান নাথান বমসহ নয়জনের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। কেএনএফের ৪০ হাজার সেট চার রঙের ক্যামোফ্লেজ ইউনিফর্ম তৈরি ও সেলাই বাবদ মোট ১ কোটি ৬২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়ার পর এই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলো।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. সুফি উল্লাহ। বুধবার (৭ অক্টোবর) চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানায় সিআইডি বাদী হয়ে মামলাটি (মামলা নম্বর-১৩) দায়ের করে।

বিজ্ঞাপন

মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন—কেএনএফের প্রতিনিধি মংহলাসিন মারমা ওরফে মং (৩৮), নিয়াজ হায়দার (৩৯), মো. গোলাম আজম (৪৭), শাহেদুল ইসলাম (২৭), মোহাম্মদ কামরুজ্জামান (৫৮), জামালুল ইসলাম (৪৫), মো. তৌহিদুল ইসলাম (৩৮) এবং মো. মতিউর রহমান (৪৩)।

সিআইডি জানায়, ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ১৮ মে। সেদিন রাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) একটি দল বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকার মোজাফফরনগর আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে কেএনএফের পোশাক প্রস্তুতের সঙ্গে জড়িত একজনকে আটক করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হালিশহর, বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকা ও একটি গার্মেন্টস কারখানায় অভিযান চালিয়ে মোট ২০ হাজার ৩০০ সেট ক্যামোফ্লেজ ইউনিফর্ম জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় বায়েজিদ বোস্তামী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের হয়েছিল। পরবর্তীতে এই বিশাল পরিমাণ ইউনিফর্ম তৈরির আর্থিক উৎসের সন্ধানে অনুসন্ধানে নামে সিআইডি। তাদের আর্থিক অনুসন্ধানে দেখা যায়, কেএনএফের প্রধান নাথান বমের নির্দেশে মংহলাসিন মারমা নিজেকে একটি প্রতিষ্ঠানের সহকারী কমার্শিয়াল ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে চক্রটির অন্য আসামিদের সহায়তায় ইউনিফর্ম তৈরির উদ্যোগ নেন।

সিআইডির অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘ওয়েল কম্পোজিট নিট লিমিটে’ নামক প্রতিষ্ঠানে দু’টি পারচেজ অর্ডারের মাধ্যমে ফ্যাব্রিক তৈরির জন্য ৯০ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়। এ ছাড়া ৪০ হাজার সেট ইউনিফর্মের প্যান্ট ও শার্ট সেলাইয়ের জন্য রিংভো অ্যাপারেলস, এনএন ফ্যাশন ও নূর ফ্যাশনকে ৭২ লাখ টাকা দেওয়া হয়। ব্যাংক হিসাব, চেক ও নগদে মোট ১ কোটি ৬২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা লেনদেনের সুস্পষ্ট প্রমাণ পায় সিআইডি।

সিআইডি আরও জানায়, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি সৃষ্টিকারী একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের পোশাক ও সরঞ্জাম তৈরিতে হস্তান্তরিত এসব অর্থের মূল উৎস গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছিল। সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ সংঘটনের অপরাধ প্রাথমিক সত্যতায় প্রমাণিত হওয়ায় মামলাটি করা হয়েছে। এই আর্থিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা উন্মোচনে সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর