ঢাকা: দেশব্যাপী আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। সকাল ১০টা থেকে সারাদেশে মোট ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা চলবে ২০ মে পর্যন্ত।
এ বছর মোট ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৮ লাখ ৫৭ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন ছেলে এবং ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন মেয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে।
পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সরকার বিভিন্ন প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ. ন. ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন জানান, দেশের ৩ হাজার ৮৮৫টি পরীক্ষাকেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে কেন্দ্রের আশপাশের এলাকায় যানজটমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষাকেন্দ্রে অযথা ভিড় বা আতঙ্ক সৃষ্টি না করার জন্যও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে, নকলমুক্ত ও স্বচ্ছ পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনের লক্ষ্যে গত দুই সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন নির্দেশনা জারি করেছে শিক্ষাবোর্ডগুলো। এরই মধ্যে ৩ হাজার ২০৯টি পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
আন্তঃশিক্ষাবোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবির জানান, অনেক কেন্দ্রেই আগে থেকেই সিসি ক্যামেরা ব্যবস্থাপনা ছিল। নতুন কেন্দ্রগুলোতেও এ ব্যবস্থা কার্যকর করতে কেন্দ্র সচিবদের উৎসাহিত করা হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) এক বিশেষ নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের যানজট ও জনদুর্ভোগ এড়াতে পরীক্ষার্থীদের সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে কেন্দ্রে প্রবেশের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে পরীক্ষাকক্ষে আসন গ্রহণের নির্ধারিত সময় আগের মতোই বহাল থাকবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষার্থীদের সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা আয়োজনের লক্ষ্যে ১৪টি বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে। নির্দেশনাগুলো হলো :
১. পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীকে অবশ্যই নিজ আসনে বসতে হবে।
২. প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে।
৩. প্রথমে বহুনির্বাচনি ও পরে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং উভয় পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না।
৪. পরীক্ষার্থীরা তাদের প্রবেশপত্র নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানপ্রধানের নিকট থেকে পরীক্ষা শুরুর অন্তত সাত দিন আগে সংগ্রহ করবে।
৫. শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও খেলাধুলা এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়গুলোর জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের নির্দেশনা অনুসারে ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রাপ্ত নম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রকে সরবরাহ করবে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র ব্যাবহারিক পরীক্ষার নম্বরের সঙ্গে ধারাবাহিক মূল্যায়নে প্রাপ্ত নম্বর বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইনে প্রেরণ করবে।
৬. পরীক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ উত্তরপত্রের ওএমআর (OMR) ফরমে পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড ইত্যাদি যথাযথভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করবে। কোনো অবস্থাতেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না।
৭. পরীক্ষার্থীকে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়), বহুনির্বাচনি ও ব্যাবহারিক অংশে পৃথকভাবে পাস করতে হবে।
৮. প্রত্যেক পরীক্ষার্থী কেবল নিবন্ধনপত্রে বর্ণিত বিষয়/বিষয়গুলোর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। কোনো অবস্থাতেই ভিন্ন বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার অনুমতি প্রদান করা যাবে না।
৯. পরীক্ষা শুরুর অন্তত সাত দিন আগে পরীক্ষার্থীদের ভেতর প্রবেশপত্র বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হলে প্রতিষ্ঠানপ্রধান দায়ী থাকবেন।
১০. পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে।
১১. কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি/পরীক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে মুঠোফোন আনতে বা ব্যবহার করতে পারবে না।
১২. সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়), বহুনির্বাচনি ও ব্যাবহারিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর উপস্থিতির জন্য একই উপস্থিতি পত্র ব্যবহার করতে হবে।
১৩. ব্যাবহারিক পরীক্ষা নিজ নিজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।
১৪. পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের ৭ দিনের মধ্যে পুনর্নিরীক্ষণ জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে।