ঢাকা: দেশের ব্যাংকিং খাতে নৈতিকতা, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
তফসিলি ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও পরিচালকদের জন্য লিখিত অঙ্গীকারনামা স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সম্প্রতি ব্যাংকগুলোর কাছে পাঠানো এক অভ্যন্তরীণ চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্টদের নির্ধারিত ফরম্যাটে অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করতে হবে এবং তা নিজ নিজ অফিসকক্ষে দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে।
অঙ্গীকারনামায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে— “দুর্নীতি কিংবা ঘুষ করব না, মানব না, সইব না।” পাশাপাশি ভুয়া ঋণ, জাল দলিল ও প্রতারণার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।
বিএফআইইউ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতে কর্পোরেট গভর্ন্যান্স, ঋণ ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে ঋণ জালিয়াতির ঘটনাগুলো খাতটির সুশাসন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এ প্রেক্ষাপটে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, এমডি ও প্রধান নির্বাহীদের মানি লন্ডারিং ও এলসি জালিয়াতি প্রতিরোধ সংক্রান্ত পৃথক ঘোষণাপত্রেও স্বাক্ষর করতে হবে। এতে বলা হয়েছে, নীতিমালার বাইরে কোনো ঋণ অনুমোদন করা যাবে না এবং ভুয়া জামানত বা জাল কাগজপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
অঙ্গীকারনামায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ঘুষ প্রদান ও গ্রহণ— উভয়ই অপরাধ এবং “ঘুষ নেওয়া মানে নিজের আত্মাকে বিক্রি করা।” একইসঙ্গে মানি লন্ডারিং ও অর্থপাচারকে দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে উল্লেখ করে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।
বিএফআইইউ আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে চেয়ারম্যান, পরিচালক বা এমডি নিয়োগ কিংবা পুনঃনিয়োগের ক্ষেত্রেও এই অঙ্গীকার বাধ্যতামূলক হবে। পাশাপাশি ব্যাংকের দৃশ্যমান স্থানে অভিযোগ বক্স ও কিউআর কোড স্থাপন করতে হবে, যাতে গ্রাহকরা ঘুষ, দুর্নীতি বা হয়রানির শিকার হলে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারেন। অভিযোগকারীর গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টিও নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ব্যাংকের লেটারপ্যাড ও নথিপত্রে মানি লন্ডারিংবিরোধী সচেতনতামূলক বার্তা অন্তর্ভুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে।