Sunday 20 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

চা খাতে সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:৪৩

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: দেশের চা খাতের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেছেন, চা শিল্পকে কেবল ঋণনির্ভর খাত হিসেবে না রেখে রাজস্ব, কর ও ভ্যাটের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে নিয়মিত অবদান রাখা একটি কার্যকর শিল্পে রূপান্তর করতে হবে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘বাংলাদেশের চা শিল্পের উন্নয়নে গঠিত পরামর্শক কমিটি’র প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চা শিল্পের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের জীবন-জীবিকা জড়িত। কোনো বাগান বন্ধ বা দেউলিয়া হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে শ্রমিক পরিবার ও স্থানীয় সমাজের ওপর। তাই শ্রমিকদের সুরক্ষা, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থে এ খাতকে টেকসই ও লাভজনক করা জরুরি।

বিজ্ঞাপন

একসময় বাংলাদেশ চা রপ্তানি করলেও উৎপাদন ব্যাহত হলে দেশ আবার আমদানিনির্ভর হয়ে পড়তে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে চা শিল্পের সংকট কাটিয়ে একে শক্তিশালী অবস্থানে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

সভায় চা বাগানের মূল বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রেখে অনাবাদি ও অব্যবহৃত জমিতে নির্দিষ্ট মেয়াদে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন, কৃষি ও বিকল্প বনায়ন এবং ক্লাস্টার বা নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে আয়ের নতুন উৎস তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে ভূমি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীতিগত অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে চা প্রবেশ এবং নিলামের বাইরে সরাসরি বিক্রির কারণে বৈধ ব্যবসায়ীরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন। এতে সরকারও উল্লেখযোগ্য রাজস্ব হারাচ্ছে। নিলামে প্রতি কেজি চায়ের দাম ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা হলেও চোরাই চা ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে সভায় জানানো হয়।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর যৌক্তিক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

সভায় আরও বলা হয়, শুধু সরকারি প্রণোদনা, আবর্তন তহবিল বা ঋণের ওপর নির্ভর না করে চা বাগানগুলোর ব্যবস্থাপনা দক্ষতা ও নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বাগানভিত্তিক সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং ও নীতিগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়।

সভায় ভূমি সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ, অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান, কৃষি সচিব মো. সেলিম খান, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ, বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ, এনবিআর চেয়ারম্যান আহসান হাবিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবীর আহামদ, বাংলাদেশীয় চা সংসদের চেয়ারম্যান কামরান টি রহমান এবং টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহ মাঈনুদ্দিন হাসানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর