Wednesday 07 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

চট্টগ্রাম বন্দরের ছবি-ভিডিও প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা, প্রত্যাহারের দাবি সিইউজের

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৭ অক্টোবর ২০২৬ ২১:২৮

– ছবি : সারাবাংলা

চট্টগ্রাম: জেলা বন্দরের নিরাপত্তা ও সংবেদনশীল স্থাপনা সুরক্ষার অজুহাতে অনুমতি ছাড়া ছবি, ভিডিও, স্কেচ ও অপারেশনাল তথ্য প্রকাশে কঠোর নির্দেশনা জারির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ জানিয়েছে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে)। সংগঠনটি এ নির্দেশনাকে নজিরবিহীন ও বেআইনি আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম-এর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বন্দরের নিরাপত্তা, যোগাযোগব্যবস্থা, জাহাজ ও কার্গো ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষিত এলাকা, অপারেশনাল তথ্য, স্কেচ এবং অবকাঠামোর ছবি ও ভিডিও অনুমতি ছাড়া প্রকাশ বা প্রচারে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞপ্তিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও গণমাধ্যমে এসব তথ্য প্রকাশ হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

এমন অবস্থায় বুধবার (৭ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে সিইউজের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ বলেন, বন্দরের নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সংবেদনশীল তথ্যের সুরক্ষা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু নিরাপত্তা ইস্যুকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে গণমাধ্যমের স্বাধীন সংবাদ সংগ্রহ, অনুসন্ধান ও প্রকাশের অধিকার নিয়ন্ত্রণ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সিইউজের নেতারা বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বাক্ ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতার পাশাপাশি সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ৪ ধারায় নাগরিকের তথ্য লাভের অধিকার স্বীকৃত। আইনের ৬ ধারায় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমের তথ্য জনগণের জন্য সহজলভ্য করার নীতিও নির্ধারণ করা হয়েছে।

সিইউজের নেতারা আরও বলেন, সাংবাদিকেরা দেশের প্রচলিত আইন, পেশাগত নীতিমালা ও জনস্বার্থ বিবেচনা করেই সংবাদ প্রকাশ করেন। কী তথ্য প্রকাশ করা যাবে আর কী যাবে না—এমন নির্দেশনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য চরম উদ্বেগজনক। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে ব্যাপক আলোচনা, প্রশ্ন ও আন্দোলন চলছে বলে উল্লেখ করেন নেতারা। তাদের ভাষ্য, এ সময় এ ধরনের নির্দেশনা স্বাভাবিকভাবেই জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

বন্দরসংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত, পরিচালনা, চুক্তি, ইজারা, বিনিয়োগ, নিরাপত্তা, শ্রমিকস্বার্থ ও জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা কোনোভাবেই বন্ধ করা যাবে না বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। রিয়াজ হায়দার চৌধুরী ও সবুর শুভ বলেন, গণমাধ্যমকে তথ্য দেওয়া বন্ধ করে কোনো প্রতিষ্ঠান স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারে না। জনস্বার্থের তথ্য যত বেশি গোপন করার চেষ্টা করা হবে, তত বেশি সন্দেহ ও বিভ্রান্তি তৈরি হবে। নিরাপত্তার নামে সংবাদ প্রকাশ বন্ধের সংস্কৃতি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

অবিলম্বে গণমাধ্যমের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে—এমন অস্পষ্ট নির্দেশনা প্রত্যাহার এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানান সিইউজে নেতারা।

সারাবাংলা/এসএন/এসআর
বিজ্ঞাপন

আরো