Friday 08 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

অবশেষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল টিভিকে, মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন ‘থালাপতি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৮ মে ২০২৬ ১৭:২৯ | আপডেট: ৮ মে ২০২৬ ১৮:২২

তামিলনাড়ুতে অভিনেতা থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া টিভিকে দলের প্রধান থালাপতি বিজয়। ছবি: সংগৃহীত

তামিলনাড়ুতে টানা ৪ দিনের রাজনৈতিক নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে অভিনেতা-রাজনীতিক থালাপাতি বিজয়ের দল তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে)। বাম দল ও ভিসিকে’র সমর্থন পাওয়ায় রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথ এখন অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে গেছে বিজয়ের।

শুক্রবার (৮ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, বাম দল ও ভিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি (ভিসিকে)-এর সমর্থন পাওয়ার পর সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে টিভিকে। শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যা ৬টায় রাজ্যপাল আর. ভি. আরলেকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন বিজয়।

বিজ্ঞাপন

সূত্র অনুযায়ী, কংগ্রেসের ৫ জন বিধায়কের পাশাপাশি ভিসিকে, সিপিআই ও সিপিএমের ২ জন করে মোট ৬ জন বিধায়কের সমর্থন পেয়েছে টিভিকে। এতে দলটির সমর্থন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৯, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের সীমা অতিক্রম করেছে।

এর আগে বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুই দফায় গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেন বিজয়। তবে তখন রাজ্যপাল স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, পর্যাপ্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ ছাড়া টিভিকেকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো হবে না।

গত মাসে অনুষ্ঠিত তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টি আসন জিতে বড় চমক দেখায় টিভিকে। নির্বাচনে প্রথমবার অংশ নিয়েই দলটি রাজ্যের দুই প্রধান বড় দল দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজাগাম (ডিএমকে) ও অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুনেত্র কাজগম (এআইএডিএমকে)-এর দীর্ঘ ৬২ বছরের রাজনৈতিক আধিপত্যে বড় ধাক্কা দেয়। তবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে ১০ আসন পিছিয়ে থাকায় সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।

বৃহস্পতিবারের বৈঠকে রাজ্যপাল বিজয়কে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘মাত্র ১১৩ জন বিধায়ক নিয়ে কীভাবে সরকার চালাবেন?’ পাশাপাশি কোন কোন দল টিভিকেকে সমর্থন দেবে, সেটিও জানতে চান তিনি। তখন বিজয়ের জবাবে সন্তুষ্ট হননি রাজ্যপাল।

এরপর থেকেই তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে জোট ও সমর্থন নিয়ে শুরু হয় তীব্র দরকষাকষি। প্রথমেই কংগ্রেস টিভিকেকে সমর্থনের ঘোষণা দেয়। তবে তারা শর্ত দেয়, বিজেপির মতো “সাম্প্রদায়িক শক্তির” সঙ্গে কোনো ধরনের জোট করা যাবে না।

সবচেয়ে বেশি নাটকীয়তা তৈরি হয়েছিল ভিসিকে এবং দুই বাম দলের অবস্থান ঘিরে। কারণ নির্বাচনের আগে তারা ডিএমকে জোটের অংশ ছিল।

শেষ পর্যন্ত ওই দলগুলোর সমর্থন নিশ্চিত হওয়ায় বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথ এখন অনেকটাই সুগম হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর