Friday 17 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

আইপিডি সংলাপ
জ্বালানিসংকটে নগর-গ্রামীণ পরিকল্পনা ও বিকল্প জ্বালানির রূপান্তর জরুরি

স্টাফ করেসপেন্ডন্ট
১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:২০

আইপিডির নির্বাহী পরিচালক নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা: বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট ও আমদানিনির্ভরতার চাপ মোকাবিলায় সমন্বিত নগর-গ্রামীণ পরিকল্পনা ও বিকল্প জ্বালানিতে রূপান্তর করে এর ব্যবহার বাড়ানো জরুরি।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সম্মেলনকক্ষে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) আয়োজিত ‘জ্বালানিসংকট এবং পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের নগরায়ণ ও উন্নয়ন ভাবনা’ শীর্ষক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে আইপিডির নির্বাহী পরিচালক নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, আমদানিনির্ভর জ্বালানিব্যবস্থার কারণে দেশ সংকটে পড়ছে। গ্যাস ও তেলের সীমিত সরবরাহ, বিদ্যুতের ঘাটতি এবং নগরকেন্দ্রিক উন্নয়ন নীতিতে বৈষম্য বাড়ছে। ভবন ও পরিবহন খাতে অতিরিক্ত জ্বালানিনির্ভরতা, এসিনির্ভর স্থাপনা ও প্রাইভেট কারের প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে, যার প্রভাব গ্রাম ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর বেশি পড়ছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, পরিকল্পনার ক্ষেত্রে নগর, জ্বালানি, পরিবহন ও অবকাঠামো খাতকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। এগুলোর মধ্যে সমন্বিত নীতি কাঠামো না থাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম প্রায়ই খণ্ডিত ও অকার্যকর হয়ে পড়ছে। যেকোনো অবকাঠামো ও ভবনের ক্ষেত্রে এনার্জি ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট বাধ্যতামূলক করা, গ্রিন বিল্ডিং কোড বাস্তবায়ন করা দরকার। সেইসঙ্গে রেল ও নৌপথভিত্তিক পণ্য পরিবহণ শক্তিশালী করা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি।

সমন্বিত নগর-গ্রামীণ পরিকল্পনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার, গণপরিবহণ সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি-দক্ষ অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, এসব পদক্ষেপ নেওয়া না হলে বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিরতার অভিঘাত আরও গভীরভাবে বাংলাদেশে প্রভাব ফেলবে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট ও আমদানিনির্ভরতার কারণে বাংলাদেশের নগর ও গ্রামীণ জীবনব্যবস্থা গভীর বৈষম্যের মুখে পড়েছে। জ্বালানি ও নগর-পরিকল্পনাকে একীভূতভাবে বিবেচনা না করায় শহরে চাপ বেড়েছে। এর ফলে গ্রাম থেকে শহরমুখী জনস্রোত জ্বালানিনির্ভরতা ও অবকাঠামোগত সংকট আরও তীব্র করেছে। মানবিক ও টেকসই বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় স্থানিক পরিকল্পনার মাধ্যমে নগর, গ্রাম ও সমুদ্র সবকিছুকে একীভূত কাঠামোয় আনতে হবে।

গবেষক সাজেদুল হক বলেন, গণপরিবহনব্যবস্থা ব্যর্থ হওয়ায় ব্যক্তিগত যানবাহন ও বৈদ্যুতিক রিকশার চাপ বাড়ছে। সরকারি সংস্থা বিআরটিসি ও বাস রেশনালাইজেশনের প্রকল্পও কাঙ্ক্ষিত ফল দেয়নি। শহর পরিকল্পনা, পরিবহন ও জ্বালানির নীতিকে আলাদা করে দেখা হচ্ছে। ফলে সংকট আরও গভীর হচ্ছে। সামাজিক আচরণ ও নীতিগত প্রস্তুতির পরিবর্তন ছাড়া কোনো প্রযুক্তি বা প্রকল্প টেকসই হবে না।

আইপিডির রিসার্চ ফেলো ফরহাদুর রেজা বলেন, পৃথিবীতে মোট জ্বালানির প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ এবং বাংলাদেশে শহরাঞ্চলে ৪০ শতাংশের বেশি এনার্জি কেবল বিল্ডিং খাতে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ অবস্থায় এনার্জি এফিশিয়েন্ট ও গ্রিন বিল্ডিং ধারণা এখন সময়ের দাবি। গ্রিন বিল্ডিং শুধু বিদ্যুৎ সাশ্রয় নয়, বরং আলো-বাতাস, পানি ব্যবহার, অপারেশনাল খরচ ও সামগ্রিক পরিবেশগত প্রভাব কমানোর একটি সমন্বিত কাঠামো।

সংলাপে আরও বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শাম্মী আক্তার, আইপিডির রিসার্চ ফেলো আসিফ ইকবাল, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের (ডব্লিউবিবি) নির্বাহী পরিচালক গাউস পিয়ারী প্রমুখ।

 

সারাবাংলা/এমএইচ/এইচআই
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর